রাবি প্রতিনিধি | ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আবাসিক হলে ছাত্রলীগে কর্তৃক তুলে দেওয়া প্রথম বর্ষের এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলী আসগর আবাসিকতা না থাকায় মতিহার হল থেকে ওই শিক্ষার্থীকে বের করে দেন। অনাবাসিক শিক্ষার্থীর নাম জনি মিয়া। তিনি মতিহার হলের ১২০ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
হলের একজন গার্ড নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "হলের ১২০ নম্বর কক্ষে জনি মিয়া নামের এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে হলে তোলেন ছাত্রলীগকর্মী মোহন কুমার মন্ডল। তিনি ২৩৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। এই তথ্য পেয়ে শুক্রবার বিকেলে ওই কক্ষে হল প্রশাসন অভিযান চালায়। এসময় জনির জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে যেতে বলেন হলের প্রাধ্যক্ষ। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মতিহার হলে অবস্থান নেয়। এসময় হল ফটক অবরোধ করে তারা হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।"
মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলী আসগর বলেন, "মতিহার হলে একজন অনাবাসিক ছাত্র ১২০ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছে জানতে পেরে আজ (শুক্রবার) বিকেল ৩টায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হল প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। তার আবাসিকতা না থাকায় বের করে দেওয়া হয়েছে। আবাসিকতা না থাকলে কোনো শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করতে পারবে না।"
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, "আমাদের কাছে জনি নামে এক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এসেছিলো তার সমস্যা নিয়ে। পরে তাকে আমরা আজ সকালে হলে তুলে দিই। কিন্তু প্রাধ্যক্ষ স্যার আজ বিকেলে পুলিশ দিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ দিয়ে বের করবে কেনো?"
তিনি বলেন, "জনিকে বের করে দেওয়ার পর আমরা সেখানে যাই। পরে প্রক্টর স্যারের পরামর্শে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা প্রাধ্যক্ষ স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। এমনকি তিনি ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেননি। তবে এজন্য আমরা কোনো ধরনের অবরোধ করিনি।"
তবে হল প্রাধ্যক্ষ আলী আসগর পুলিশের বিষয়ে বলেন, "হল গেইটে অবস্থান করা পুলিশকে নিয়ে আমি অভিযান পরিচালনা করেছি। বাইরের কোনো পুলিশ নিয়ে ঢুকিনি তো। আর কে কাকে তুলেছে, সেটা আমার জানার বিষয় না। হলের পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য অনাবাসিক কাউকে হলে থাকতে দেওয়া হবে না।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, "আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ওখানে উপস্থিত ছাত্রলীগসহ ওই শিক্ষার্থীকে বলেছি বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করতে।"