অরণ্য রণি | ০৭ জানুয়ারী, ২০২০
অধিবেশন কক্ষে তখন চলছে তুমুল বিতর্ক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাত, মানবাধিকার, পরিবেশ বিপর্যয় বন্ধ করে কীভাবে সমঝোতায় পৌঁছা যায় তা নিয়ে বাগযুদ্ধ। বিশ্বনেতারা তুলে ধরছেন তাদের বক্তব্যের পক্ষে নানা যুক্তি। এ ছাড়া আলোচনা চলছে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তিসহ বৈষয়িক নানা বিষয়ে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের এই উত্তাপ টের পাওয়া গেল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আবাসিক ক্যাম্পাসে।
ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অফ বিজনেস কমিউনিকেটরসের উদ্যোগে ২-৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি গ্লোবাল মডেল ইউনাইটেড ন্যাশনস-২০২০ (বাগমান-২০২০)। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হয়ে যান এমনই বিশ্বনেতা।
মডেল ইউনাইটেড নেশনস হচ্ছে মূলত জাতিসংঘের অধিবেশনের প্রতীকী উপস্থাপনা, যেখানে শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘের আলোচ্যসূচির আদলে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন।
এ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এমসি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বাগমান-২০২০ এর সেক্রেটারি জেনারেল জিদনি ময়ুখ বলেন, ‘চতুর্থবারের মতো বাগমান আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। সকল প্রতিনিধি এবং সেক্রেটারিয়েট টিমের সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই এই অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলার জন্য।
কেউ কেউ এমন সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন এই প্রথম। তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলিও কম নয়। ন্যাটো কমিটিতে বেলজিয়ামের প্রতিনিধিত্ব করা ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাবিহা আনবার বলেন, ছায়া জাতিসংঘের সম্মেলনে এটি আমার প্রথম অংশগ্রহণ। কমিটি সেশনে পরিচালক ও অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।
নর্থ অ্যাটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) এর সেক্রেটারি জেনারেল আহমেদ কবির চয়ন বলেন, বাগমানের সর্বশেষ সংস্করণ 'বাগমান ২০২০' এক ধরণের সেরা অভিজ্ঞতাটি নিশ্চিত করেছে। অনন্য সংযোজন এবং উদ্ভাবনী বিভাগের সাথে বাগমান ২০২০ স্পষ্টভাবে সমস্ত প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে গেছে। সেক্রেটারি জেনারেল জিদনি মায়ুখ এবং তার দল বাংলাদেশ আজ অবধি সেরা আবাসিক ছায়া জাতিসংঘের সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। প্রতিনিধিরা তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কূটনীতিককে মুক্ত করার সুযোগ পেয়েছিল এবং বাগমান সবাইকে ২০২০ সালের জন্য একটি ব্যতিক্রমী সমাধান দিয়েছে।
২ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাগমান-২০২০। এরপর ডেলিগেটসদের বাসে করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আবাসিক ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। মধ্যাহ্নভোজের খাবার শেষে ওপেনিং প্ল্যানারিতে বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে মডারেটরদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় কমিটিভিত্তিক আলাদা আলাদা ব্রিফিং সেশন। এরপর রাতে বনফায়ার করা হয়।
দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয় কমিটি সেশন। সারাদিনে চারটি সেশনের পরও রাতে ন্যাটো, ইউএনএসসি কাউন্সিলের মিডনাইট ক্রাইসিস সেশন করা হয়। সন্ধ্যার পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও পারফর্ম করেন বিভিন্ন কমিটির প্রতিনিধি ও আয়োজকরা। রাতের খাবার শেষ ডর্মে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন সবাই।
তৃতীয় দিনে সারাদিনে চারটি কমিটি সেশন হয়। তারপর সন্ধ্যার পরে ওপেন এয়ার কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সবাই কনসার্ট উপভোগ করেন।
চতুর্থ দিনে দুপুরের মধ্যে দুটি কমিটি সেশন শেষ করে ছায়া জাতিসংঘের যুক্তিতর্কের পর্ব শেষ হয়। বিকেলে ক্লোজিং প্ল্যানারি ও সন্ধ্যার পর আয়োজন করা পুরস্কার বিতরণী পর্ব। বিভিন্ন কমিটির সেরা পারফর্মারদের পুরস্কৃত করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় নৈশভোজ।
৬ জানুয়ারি সকালে ব্রেকফাস্টের পর শুরু হয় ফেরার পালা। এভাবেই সাঙ্গ হয় দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ছায়া জাতিসংঘের এ সম্মেলন বাগমান-২০২০।
পুরো অনুষ্ঠানেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা সদ্য প্রয়াত স্যার ফজলে হাসান আবেদ কেসিএমজিকে।