আতিকুর রহমান নগরী | ১৩ জুলাই, ২০২৬
সকল মানবসন্তানই সুশিক্ষা আর সভ্যতা পাওয়ার অধিকার নিয়েই পৃথিবীর বুকে পদার্পণ করে থাকে। জন্মের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত থাকে শিশু ধরে নেওয়া হয়। শিশু থাকাবস্থায় তার দোষ-গুণ কেউ গণনা করে না। তার হাস্যজ্বল নুরানি চেহারা দেখে সবাই তাকে আদর করে কোলে টেনে নেয়। স্নেহের চাদরে তাকে হর-হামেশা আবৃত করে রাখে। তবে কোন বয়সের মানবসন্তানকে শিশু বলে তা আমাদের অনেকের হয়ত জানা নেই। জাতী সংঘের শিশু আইন অনুযায়ী শূন্য থেকে আঠারো বছর পর্যন্ত সব মানবসন্তানকে শিশু বলা হয়। আমাদের সমাজও সে অনুযায়ী বলে থাকে। এব্যাপারে ইসলামি শরিয়তের ভাষ্য হচ্ছে ‘ইযা বালাগুন নিকাহ’ অর্থাৎ যখন সে বিবাহের বয়সে উপনীত হবে। বিয়ের বয়সে পৌছার আগমুহূর্ত পর্যন্ত সব মানবসন্তানকে শিশু বলা যায়। এখন প্রশ্ন হতে পারে বিয়ের বয়স কখন? এ প্রশ্নের সহজ উত্তর যখন সে সাবালক হবে। কোন বয়সসীমায় পৌছলে তাকে সাবালক বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। তবে চৌদ্দ বছরের সকল ছেলে সন্তানই সাবালক হিসেবে পরিগণিত হবে।
জ্ঞানই আলো। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। এসব স্লোগান সবার জানা। তবে কোন ধরনের শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হতে পারে তা খোদ জাতির কাছেই অস্পষ্ট। তবুও জাতি থেমে নেই। তাদের কচিমনা সন্তানদের শিক্ষিত জনশক্তিতে পরিণত করার মানসে ছয় বছর বয়সে একটি ছেলেকে প্রথমে তার পিতামাতা প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করে থাকেন। তবে হাল জামানায় ইংলিশ মিডিয়াম আর কিন্ডারগার্টেন স্কুলে এ বয়সের আগেও ভর্তি করা হয়ে থাকে। অনেকের মতে শিক্ষা নয়, সুশিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর এ সুশিক্ষার অভাবেই জাতি আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত। যাই হোক, আমি এই ছোট্ট পরিসরে শিক্ষা নিয়ে আলোকপাত করে সময় নষ্ট করবো না।
রাজনীতি। রাজার মত নীতি। রাজ্য পরিচালনার নীতি। মোটকথা রাজা-মহারাজার মত দেমাগ, চিন্তা-চেতনা সমৃদ্ধ একটি সাবজেক্টের নাম রাজনীতি। রাজনীতি জনতার ভাগ্যের চাকা ঘুরানোর মেশিন। উন্নয়নের জোয়ারে রাজ্য ভাসিয়ে দেওয়র মাস্টারপ্ল্যানের আরেক নাম রাজনীতি। এসব আমার মনের কথা। ক্ষুদ্র জ্ঞানের চিন্তার ফসল এসব কথা। কাউকে বলব না একাত্মতা ঘোষণা করার কথা। আমাদের দেশ সোনার বাংলাদেশ। স্বপ্নের বীজ-বপনের জন্য আমাদের দেশের মাটিই সবচে’ উর্বর। এখানে অনেক জ্ঞানী-গুণী জন্মেছেন। শুয়ে আছেন বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। তারাই ছিলেন সঠিক দেশপ্রেমিক। সুনাগরিক হিসেবে তারাই হলেন জাতির জন্য মডেল। আসল রাজনীতি আর নকল রাজনীতি একসাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। সঠিক রাজনীতিবিদরা উধাও হয়ে গেছেন। দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত কায়েমের জন্য কেউ আর রাজনীতি করেন না। স্বচ্ছ আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মাইকিং করে লোক জমানো ছাড়া স্বচ্ছতা খুঁজে পাওয়া দায়। অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এতে কিশোররা জড়িত না হওয়াটা মঙ্গলজনক দিক। দলের বড় ভাইদের বড় বড় কথায় গলে যাচ্ছে ছোট্টমনা কিশোরদের হৃদয়। যোগ দিচ্ছে তারা রাজনীতিতে। পড়ালেখা ছেড়ে আড্ডাবাজিতে বেশ পটু হয়ে উঠছে। পাড়া-মহল্লার সবগুলি অলিগলি তাদের পদভারে মুখরিত হচ্ছে। বেমালুম নিদ্রায় নাক ডাকাচ্ছেন অভিভাবকরা। ফ্যামিলি গাইডের অভাবে কচি-মনা কিশোররা ধ্বংস করে দিচ্ছে তাদের সুন্দর জীবন। রাজনীতি ছাড়া আরও অনেক কারণ আছে যা কিশোর অপরাধের সূত্রপাত ঘটায়।
কিশোর অপরাধ ও তার কারণ:
একটি শিশু নিরপরাধ এবং মাসুম বা নিষ্পাপ হয়ে জন্মগ্রহণ করে। তার মধ্যে থাকে লক্ষ আশা। শিশুকে সু-মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার,সমাজ এবং রাষ্ট্রের। পরিবারই শিশুর শিক্ষার মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমাদের মনে রাখতে হবে আজকের শিশু-কিশোররা আগামী দিনের সম্পদ। তাকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। উন্নত বিশ্বে শিশুদের কল্যাণ ও বিকাশের জন্য নানা রকম পরিচর্যার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে অশিক্ষা ও দারিদ্র্যের কারণে অধিকাংশ শিশুরই উপযুক্ত কোনো পরিচর্যা করা হয় না। সমাজে সুষ্ঠু জীবনযাপন করার অধিকার প্রতিটি শিশুরই আছে। কেউ অপরাধী হয়ে জন্মায় না, পারিপার্শ্বিক পরিবেশে তাকে অপরাধী করে তোলে। একটি আদর্শ সমাজ গঠন করতে হলে সমাজের মানুষগুলোকে আগে আদর্শবান হতে হবে। নচেৎ সুন্দর ও সুষ্ঠু সমাজ গঠন করা সম্ভব নয়। সামাজিক আচরণকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার লক্ষ্যে সমাজের ব্যক্তিবর্গ সামাজিক আদর্শ গঠন করে থাকেন। প্রতিটি সমাজে আমরা দেখতে পাই, কিছু লোক আছে যারা সমাজের এসব আদর্শ ও মূল্যবোধকে মেনে চলে এবং কিছু লোক আছে যারা সেগুলোকে লঙ্ঘন করে। এসব ব্যক্তিবর্গ সমাজের শান্তি ও ঐক্যকে ব্যাহত করে এবং এদের বলা হয় অপরাধী। যখন অল্পবয়সী শিশু-কিশোররা এসব সামাজিক আদর্শকে লঙ্ঘন করে এবং অপরাধীর মতো আচরণ করে তখন তাদের কিশোর আদালতের অধীনে বিচার করা হয়। এসব শিশু-কিশোরদের বলা হয় কিশোর অপরাধী।
বাংলাদেশে ৭-১৬ বছর বয়সী শিশুদের কিশোর বলা হয়। এই কিশোররা যখন অপরাধমূলক কাজে জড়িত হয় তখন তাদের কিশোর অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়। যখন তাদের সমাজ বিরোধী কার্যকলাপ খুব স্বল্পমাত্রা হতে মারাত্মক আকার ধারণ করে, তখন অনেক সময় তাদের Legal Criminal Act-এর অধীনে বিচার করা হয়। বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানী ভিন্ন ভিন্নভাবে কিশোর অপরাধের সংজ্ঞা দিয়েছেন-
(১) সমাজ বিজ্ঞানী সালমানের মতে, ‘কিশোর অপরাধ বলতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ওপর পরিবার ও সমাজের নিয়ন্ত্রণহীনতা বুঝায়।’
(২) সমাজ বিজ্ঞানী বিসলারের মতে, ‘কিশোর অপরাধ হচ্ছে প্রচলিত সামাজিক নিয়মকানুনের ওপর অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরদের অবৈধ হস্তক্ষেপ।’
উপরোক্ত সংজ্ঞা থেকে আমরা ধরে নিতে পারি যে, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দ্বারা সংঘটিত সমাজ ও আইন বিরোধী এবং রীতিনীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী কার্যকলাপই হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
অপরাধের লক্ষণ: অপরাধী শিশুরা বিপথগামী এবং তারা বিশৃঙ্খল ও সমাজ বিরোধী আচরণ করে থাকে। সে কারণে স্বাভাবিক শিশুদের থেকে এসব বিপথগামী শিশুদের আচরণ ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে। যেহেতু তারা সমাজ বিরোধী আচরণের সাথে জড়িত সে কারণে তাদের মাঝে ধ্বংসাত্মক মেজাজ এবং আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যায়। তাদের অপরাধমূলক কিছু লক্ষণ নিম্নরূপ-
ক) এসব শিশুদের মাঝে সমাজ বিরোধী চিন্তা লক্ষ্য করা যায় এবং তারা ব্যাপকভাবে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকে।
খ) মেজাজের দিক দিয়ে এরা আক্রমণাত্মক এবং উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির হয়ে থাকে।
গ) শারীরিকভাবে এরা শক্তিশালী হয়ে থাকে এবং এদের মাঝে দৃঢ় সংকল্প, সাহসী মনোভাব এবং আচরণ লক্ষ্য করা যায়।
ঘ) তারা পরিবার এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি অসহযোগিতামূলক এবং অনমনীয় হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে নতুন কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন এবং বিরোধিতা করার প্রবণতা দেখা যায়।
ঙ) তাদের মধ্যে বিষণ্ণতামূলক এবং অস্থির আবেগীয় ব্যক্তিত্বের লক্ষণ দেখা যায়। (উচ্চতর শিক্ষা মনোবিজ্ঞান, বা.উ.বি.পৃষ্ঠা-১৫৫)
কিশোর অপরাধের কারণ: কিশোর অপরাধের জন্য বহুবিধ কারণ দায়ী। কোনো নির্দিষ্ট কারণে অপরাধ সৃষ্টি হয় না। তবে অপরাধ বিজ্ঞানী, সমাজ বিজ্ঞানী এবং মনোবিজ্ঞানীগণ অপরাধ বিশ্লেষণ করে যে প্রধান প্রধান কারণ আবিষ্কার করেছেন তা নিম্নরূপ-
(১) জৈবিক কারণ: মনোবিজ্ঞানী Kirestmar, Sheldon, Gluicks এবং Lay-এর মতে, মানুষের দৈহিক গঠন এবং বৈশিষ্ট্য অপরাধ প্রবণতার জন্য দায়ী। ত্রুটিপূর্ণ দৈহিক গঠন, স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটি প্রভৃতি শিশু-কিশোরদের মাঝে হীনমন্যতাবোধ এবং অস্বাভাবিক আচরণের সৃষ্টি করে। ফলে সে পরিবেশের সাথে স্বাভাবিক উপযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয়ে অপরাধ প্রবণ হয়ে ওঠে।
(২) বংশগত কারণ: যদি বংশের কেউ অপরাধী হয় তাহলে তার প্রজন্ম অপরাধী হতে পারে। এটা জিন দ্বারা বাহিত হয়। তবে এর পক্ষে বিপক্ষে নানামত আছে।
(৩) মনোবৈজ্ঞানিক কারণ: মনোবিজ্ঞানী গডার্ড অপরাধ প্রবণতার জন্য মানসিক অক্ষমতা বা দোষত্রুটিকে দায়ী করেছেন। মানসিক বৈকল্য এবং অসুস্থতার সঙ্গে অপরাধ প্রবণতা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। শিশুদের অপরাধ প্রবণতার জন্য যে সকল মানসিক কারণ দায়ী তা নিম্নরূপ-
ক) প্রত্যাখ্যাত শিশু
খ) অতিরিক্ত আদর ও স্নেহ
গ) অতিশাসন
ঘ) পারিবারিক দাম্পত্য-কলহ
ঙ) অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ
চ) পিতা-মাতার অতি উচ্চাশা ছ) নিরাপত্তাবোধের অভাব (৪) পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক কারণ:- পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক কারণকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়- ক) দারিদ্র্য খ) বিপর্যস্ত গৃহ গ) বহির্জগতের পরিবেশ ঘ) অস্বাস্থ্যকর বিদ্যালয় প্রথা।
(৪) সামাজিক কারণ: শিশু-কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা সামাজিক কু-সংস্কারের জন্য অনেকটা দায়ী। সামাজিক কারণের আওতায় যে সকল অপরাধ প্রবণতা দেখা যায় তা হচ্ছে- ক) পারিবারিক ভাঙন খ) দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ, বিবাহ বিচ্ছেদ গ) চিত্তবিনোদনের অভাব ঘ) ত্রুটিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ ঙ) বিদেশি চিত্তবিনোদন ও সংস্কৃতির প্রভাব
আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটসহ সারা দেশে কিশোর অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিশোর অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতাই দায়ী। আমাদের সমাজ ও পরিবার এখন একটি অস্থির সময় পার করছে। হঠাৎ কিশোর অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে এটি অন্যতম কারণ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অভাবে পরিবারের উপার্জনশীল ব্যক্তি বা অভিভাবকদের ওপর অস্বাভাবিক চাপ, সর্বোপরি বিশ্বায়নের ধাক্কায় পরিবারের বন্ধন, মূল্যবোধ সব কিছু যেন ভেঙে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় পরিবারে সন্তানদের আগের মতো গাইড করা হচ্ছে না। ব্রোকেন ফ্যামিলির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। এসব ফ্যামিলিতে বেড়ে ওঠা সন্তানরা পাচ্ছে না বাবা-মা দুজনেরই পরিচর্যা। এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সন্তানদের সামাজিকীকরণে। অসৎ সঙ্গে পড়ে এবং অনেক সময় জীবিকা অর্জনের জন্য নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশু-কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। শুধু নিম্নবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজেই নয়, উচ্চবিত্ত সমাজের শিশু-কিশোররাও ছিনতাই-রাহাজানিতে জড়িয়ে পড়েছে মাদক সেবন কিংবা অন্য কোনো কারণে টাকা সংগ্রহের জন্যই নয়, রোমাঞ্চের খোজেও তারা এসব অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। এ ৰেত্রে কেবল টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং ভায়োলেন্সপূর্ণ ভিডিও গেমসকেও দায়ী করা যায়।
কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনের জরিপে দেখা গেছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত শিশুদের শতকরা ৯০ জনই মাদকসেবী। ফেনসিডিল, গাজা, হেরোইনের মতো মরণ নেশায় বুদ হয়ে থাকে তারা। আর এ নেশার খরচ জোগাতেই অপরাধ জগৎ থেকে তাদের বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন এ সুযোগটি গ্রহণ করে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। তারা শিশু-কিশোরদের দিয়ে খুন-রাহাজানির মতো বড় অপরাধ করিয়ে থাকে। কারণ অপ্রাপ্তবয়স্করা আইনগতভাবে কিছুটা ছাড় পেয়ে থাকে এবং পুলিশও তাদের তেমন একটা সন্দেহ করে না ও নজরদারির মধ্যে রাখে না। সাধারণত দেখা যায়, অপরাধী শিশু-কিশোরদের শিশু-কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রে না পাঠিয়ে বয়স বাড়িয়ে জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। এতে তারা সংশোধিত না হয়ে আরও বড় ধরনের অপরাধী হয়ে উঠছে বলে অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন। শিশু-কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা রোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। এ জন্য সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানীদের পরামর্শ নিতে হবে। পারিবারিক মূল্যবোধ রৰার বিষয়টির দিকেও জোর দিতে হবে। পরিবার হচ্ছে মানুষ গড়ার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। পারিবারিক মূল্যবোধ আদর্শের চর্চা যেখানে থাকবে সেখানে কিশোররা ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। যেসব পরিবার তার সনত্দানদের ব্যাপারে সচেতন সেসব পরিবারের সনত্দানরা কখনো বিপথে যায় না। তাই কিশোর অপরাধ রোধে পারিবারিক মূল্যবোধ ও আদর্শের চর্চা বাড়াতে হবে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে শিশু-কিশোরদের ভয় দেখানো উচিত নয়। ভয় দেখিয়ে সাময়িকভাবে তাদের হয়ত কিছুদিন অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব। কিন্তু অচিরেই তা আরো দারূণভাবে প্রকাশ পায়। তাই প্রত্যেক বাবা-মায়েরই উচিত ছোটবেলা থেকেই তাদের সন্তানদের স্নেহময় পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় এবং নৈতিক-অনৈতিক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়। তাছাড়া শিশু-কিশোরদের বর্তমান যান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আবদ্ধ না রেখে তার মধ্যে কল্পনা শক্তির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে তাদের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা প্রয়োজন।
তবে নৈতিক শিক্ষার (ধর্মীয়) বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিশু-কিশোররা ক্রমশ নৈতিক শিক্ষা থেকে দূরে সরে আসছে বলেই তাদের একটা অংশ আজ বিপথগামী হয়ে পড়েছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার অনুসঙ্গ যুক্ত করা খুবই প্রয়োজন। তাদের মাঝে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষা এবং মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে না পারলে তাদেরকে কখনোই অবক্ষয় এবং অধঃপতনের হাত থেকে বাঁচানো যাবে না। তাই এ ব্যাপারে সরকার এবং অভিভাবকদের অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। তবেই এই আত্মঘাতি সামাজিক অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হতে পারে।