এনামুল ইসলাম এনাম | ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
২০০১ সালের ৯/১১ এর টুইন টাওয়ারে হামলার পর সারা বিশ্বের মুসলমানসহ আমেরিকার মুসলমানদের মধ্যে যে রকম ভয়-ভীতি, উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়েছিল, আজ প্রায় দেড় যুগ পরে রিপাবলিকান পার্টি থেকে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ঠিক একই রকমের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অবস্থার আরো অবনতি হওয়ারও তীব্র আশংকা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে যারা আমেরিকাতে বসবাস করছেন, তাদের প্রধান কাজ হল পরিবেশ পরিস্থিতির উপর সর্বদা নজর রেখে একে অপরের সাথে ঐক্যবদ্ধ্ব থেকে এই আপদকালীন সময়ের মোকাবেলা করা। আমাদের একটি কথা সবসময় মনে রাখতে হবে, আমেরিকা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম প্রধান দেশ, যে দেশে আইনের শাসন, সংবিধান, মানবাধিকার, জননিরাপত্তাসহ সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা রক্ষা করা হয়ে থাকে। তাই একজন প্রেসিডেন্ট ইচ্ছে করলেও অনেক কিছুর পরিবর্তন করতে পারেন না। এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার।
তবে হ্যাঁ, একজন প্রেসিডেন্ট তার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অনেক কিছুরই সাময়িক পরিবর্তন করতে পারেন। এর জন্য আমাদেরকে শুধু ভয়ের মধ্যে না থেকে চোখ-কান খোলা রেখে সতর্কতার সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে।
বর্তমানে আমেরিকাতে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে তা হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিস্ট দেশের নাগরিকদের আমেরিকাতে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা। আমেরিকাতে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সকল মুসলমানরাই এতে আতংকিত। অবৈধ বাংলাদেশিরা তো বটেই, গ্রিনকার্ডধারী বাংলাদেশিরাও চরমভাবে ভীত ও উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে একজন বাংলাদেশি আটকের খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়াতে অনেকেই দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন। আর যারা ইতিমধ্যে দেশে যাওয়ার টিকেট করে ফেলেছেন, তারাও টিকেট ফিরত দিচ্ছেন।
নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন এলাকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের ব্যক্তিরা এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করছেন এবং সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানাচ্ছেন। ইতিমধ্যে নিউ ইয়র্কের গভর্নর আন্ডু কোমো ও মেয়র বিল ডি ব্লাজিও প্রেসিডেন্টের এই আদেশের তীব্র বিরোধীতা করেছেন। নিউ ইয়র্কের একটি আদালতও প্রেসিডেন্টের এই আদেশ অবৈধ বলেছেন এবং জাতিসংঘও এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে বক্তব্য দিয়েছে। ইমিগ্রান্ট বিশেষজ্ঞরা বৈধ বাংলাদেশিদের আতংকিত না হওয়ার জন্য বললেও অনেক মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা আপাতত আমেরিকার বাইরে না যাওয়ারই পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ ইতিমধ্যেই হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরো মুসলিম দেশ পড়তে পারে।
লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক