সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৭ আগস্ট, ২০২৬
যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সৃজনশীল মেধার বিকাশের লক্ষ্যে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের ব্যাপক আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এসব কনটেন্টের ক্রমাগত সম্প্রচারের ফলে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ারের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, অনেক নাটক ও সিনেমায় পরকীয়া এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক ও ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এতে সমাজের প্রচলিত নৈতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মূলধারার গণমাধ্যমে এ ধরনের সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শন সামাজিক নৈরাজ্য তৈরিতে ভূমিকা রাখছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে আইনি যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মেনে চলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে সরকারকে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার লক্ষ্যে কেবল প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশদাতার মতে, এর মাধ্যমে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও সৃজনশীল মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।