সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘রামায়ণ’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে চলা নানা আলোচনার মাঝে অভিনেত্রী সাই পল্লবীর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে তিনি নিজের ত্বকের ব্রণ ও লালচে ভাব নিয়ে কথা বলেছেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
সাই পল্লবীর ভাষ্যমতে, মুখে ব্রণ থাকা সত্ত্বেও দর্শক যখন তাকে আপন করে নিয়েছিলেন, তখনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে—প্রকৃত সৌন্দর্য আসলে কোনো কৃত্রিম নিখুঁত ত্বকে নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের মধ্যেই নিহিত। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, মুখের এই লালচে ভাব বা ব্রণের মতো সমস্যা কি নিছকই ব্রণ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে?
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, রোজেশিয়া মূলত মুখের ত্বকের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা। সাধারণত গাল, নাক, কপাল ও থুতনিতে এর উপসর্গ বেশি দেখা যায়। এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: দীর্ঘক্ষণ ধরে মুখের ত্বক লাল হয়ে থাকা; ঘন ঘন মুখে গরম ভাব অনুভূত হওয়া; ত্বকের ওপর সূক্ষ্ম রক্তনালি ভেসে ওঠা; ব্রণের মতো ছোট ছোট দানা বা ফুসকুড়ি গজানো।
এ ছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে ত্বকে জ্বালাপোড়া, খোঁচা লাগার অনুভূতি বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে ব্রণের মতো গোটা দেখা দিলে বা মুখ বারবার লাল হয়ে গেলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। তবে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মুখে দানা দেখলেই অনেকেই সেগুলোকে সাধারণ ব্রণ বলে ভুল করেন। অথচ এই দুইয়ের মধ্যে বড় তফাত রয়েছে। সাধারণ ব্রণ হয় মূলত রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এবং প্রদাহের কারণে, যাতে ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস থাকতে পারে। অন্যদিকে, রোজেশিয়ার ক্ষেত্রে মুখের লালচে ভাব, সূক্ষ্ম রক্তনালি প্রকাশ পাওয়া এবং প্রদাহযুক্ত দানা বেশি দেখা গেলেও এতে সাধারণত ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস থাকে না।
এই তফাতটি জানা অত্যন্ত জরুরি; কারণ সাধারণ ব্রণের অনেক প্রসাধনী বা ওষুধ রোজেশিয়ায় আক্রান্ত ত্বকে ব্যবহার করলে জ্বালা আরও বেড়ে যেতে পারে।
রোজেশিয়া পুরোপুরি নিরাময় করার নির্দিষ্ট কোনো উপায় না থাকলেও সঠিক চিকিৎসায় এর উপসর্গগুলো সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসকরা টপিক্যাল ক্রিম, খাওয়ার ওষুধ কিংবা লেজার থেরাপির পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ত্বকের সুরক্ষায় মৃদু ক্লিনজার, সুগন্ধিহীন ময়েশ্চারাইজার এবং মানসম্মত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। কড়া রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী, স্ক্রাব কিংবা অন্য কারও প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিজের ত্বকে ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া রোজেশিয়ার প্রভাব অনেক সময় চোখেও পড়তে পারে (যেমন- চোখ শুষ্ক হওয়া, জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব)। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।
সাই পল্লবীর অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ত্বকের কোনো ত্রুটি মানুষের ব্যক্তিত্ব বা যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না। বিনোদন জগতের অবাস্তব সৌন্দর্যের চাপে হীনম্মন্যতায় না ভুগে নিজের স্বাভাবিক রূপকে গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। লক্ষ্য ত্রুটিহীন ত্বক পাওয়া নয়, বরং সুস্থ থাকা এবং নিজের চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়া।