Sylhet Today 24 PRINT

চা শ্রমিকের কাজ বেশি, মজুরি কম, নিম্ন জীবনযাত্রার মান

কবির আহমদ চৌধুরী |  ০১ মে, ২০২৫

চা-কে বলা হয় পানির পর সবচেয়ে উপভোগ্য পানীয়। চা সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরনের উষ্ণ পানীয়। চা-পাতা পানিতে ফুটিয়ে বা গরম পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা হয়। চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস। চা পাতা কার্যত চা গাছের পাতা, পর্ব ও মুকুলের একটি কৃষিজাত পণ্য যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়। ইংরেজিতে চায়ের প্রতিশব্দ হলো টি (tea)। গ্রিক দেবি থিয়ার নামানুসারে এরূপ নামকরণ করা হয়েছিল। চীনে ‘টি’-এর উচ্চারণ ছিল ‘চি’। পরে হয়ে যায় ‘চা’।

চা পানীয় হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও এই চা-পাতা আহরণে যেসব শ্রমিক কাজ করে থাকেন, তাদের মজুরি বাংলাদেশের আশঙ্কাজনকভাবে কম। ভাবতে পারেন বাংলাদেশে চা-শ্রমিকেরা মাত্র ১৭৯ টাকা? জি, এটাই বাস্তব! এরজন্যে কাজ করতে হয় তাদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা। অথচ শ্রীলঙ্কায় চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি সাড়ে পাঁচশ টাকার মতো। কেনিয়া ও ভারতে তা যথাক্রমে ৪৮৩ ও ২৫৬ টাকা।

বাংলাদেশে চা শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে অনেক আলোচনা আছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবি ও আন্দোলন আছে। দীর্ঘদিন মজুরি বন্ধের অভিযোগও আছে। তবে এসব দাবির আন্দোলন একটা সময়ে এসে মুখ থুবড়ে পড়ে। দাবির একটা অংশ মেনে নিয়ে শ্রমিকদের সামনে ভবিষ্যতে আরও বড় কিছুর নিশ্চয়তা দিয়ে তাদেরকে ঘরে ফেরানো হলেও বাস্তবায়ন হয় সামান্যই।

নিম্ন মজুরির কারণে চা-শ্রমিকদের জীবনে নেমে আসে ভয়াল অন্ধকার। তারা না পারে সমাজের অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে, না পারে তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে লেখাপড়া করাতে।

অপ্রতুল খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে তাদের। সপ্তাহে ৩.৩ কেজি চাল বা আটা দেওয়া হয় ভর্তুকিমূল্যে, যা একটি পরিবারের জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য তাদের নেই। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে তাদের। চা বাগানে সামান্য প্রাথমিক চিকিৎসা থাকলেও, বড় অসুস্থতায় চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই। হাসপাতালে যেতেও পকেট থেকে খরচ করতে হয়—যা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

চা-শ্রমিকদের যত সমস্যা
বাসস্থান ও জীবনের অনিশ্চয়তা অত্যধিক চা বাগানগুলোতে। বেশিরভাগ শ্রমিক পুরনো, জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করেন। বাসস্থান সরকারি বা মালিকানাধীন হওয়ায় যেকোনো সময় উচ্ছেদের ভয় থাকে। শিক্ষার রয়েছে অপ্রতুলতা। বেশিরভাগ বাগানে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সুযোগ আছে; উচ্চমাধ্যমিক বা কলেজ পর্যায় নেই। সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য, ফলে প্রজন্মান্তরে দারিদ্র্য চলতে থাকে। তাদের অগ্রগতির পথ থাকে বন্ধুর। নারী শ্রমিকদের ওপর চলে নির্যাতন ও রয়েছে বৈষম্য। নারী শ্রমিকরা অধিক কাজ করেও কম পারিশ্রমিক পান। যৌন হয়রানি বা শারীরিক নিপীড়নের অভিযোগ থাকলেও বিচার পায় না মাতৃত্বকালীন ছুটি বা সুরক্ষা প্রাপ্যতা নেই।

শ্রমিক অধিকার ও সংগঠনের দুর্বলতা প্রকট। চা বাগানগুলোতে। শ্রমিক ইউনিয়ন দুর্বল, অনেকসময় মালিকপক্ষের প্রভাবাধীন। ধর্মঘট বা আন্দোলনে গেলে হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির ভয় থাকে। উৎপাদন খরচ বাড়ার দায়ও শ্রমিকদের ওপর চাপানো হয়ে থাকে। প্রযুক্তির অভাব, ক্লোন জাতের দুর্বলতা, চা বোর্ডের অদক্ষতা—এসব কারণে উৎপাদন কম হলেও এর দায় শ্রমিকের উপর চাপানো হয়। উৎপাদন ব্যয় বেশি বলে মজুরি না বাড়ানোর অজুহাত দেওয়া হয়। অধিকাংশ চা শ্রমিক দলিত জনগোষ্ঠীভুক্ত—তাদের সামাজিক মর্যাদা এখনও খুবই নিচু। মূলস্রোত সমাজের সঙ্গে সংযোগ নেই, ফলে জাতীয় নীতিমালায় তারা উপেক্ষিত। শ্রম আইনের অনেক ধারা কার্যকরভাবে প্রযোজ্য নয় চা বাগান এলাকায়।  নিয়োগপত্র, সাপ্তাহিক ছুটি, ওভারটাইমের কোনো নিয়ম মানা হয় না।

 

মজুরি বৈষম্য
চা বাগান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, ২০০৫ সালে প্রথম দফায় চা-শ্রমিকের মজুরি ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় বাড়িয়ে ৪৮ টাকা করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে চা-শ্রমিকের মজুরি বাড়িয়ে ২০১২ সালে ৬৫ টাকা, ২০১৫ সালে ৭৯ টাকায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ৮৫ টাকা, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ১০২ টাকা এবং ২০২০ সালে ১২০ টাকা করা হয়।

২০২২ সালে চা শ্রমিকদের আন্দোলনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে মজুরি বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করা হয়। ২০২৩ সালে নতুন মজুরি কাঠামো হওয়ার পর ২০২৪ সালে চা শ্রমিকের দৈনিক ৮ টাকা মজুরি বেড়ে ১৭৮ টাকা হয়। চা-শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা দুটি বোনাস পাচ্ছেন। দুর্গাপূজা ও দোল পূর্ণিমায় (দুল পূজা বা ফাগুয়া উৎসব) তাদের দুটি বোনাস হিসাবে দেওয়া হয় মাত্র ৪ হাজার ২৫০ টাকা।

এরপর সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি বছর ৫ শতাংশ হিসেবে মজুরি বাড়ছে। এখন শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি পাচ্ছেন ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা। আগামী আগস্টে মজুরি আরও ৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকরা প্রতি সপ্তাহে ৩ দশমিক ৩ কেজি ভর্তুকি মূল্যে আটা বা চাল পান বাগান মালিকের কাছ থেকে (প্রতি কেজি ২ টাকা হারে)।

এই অল্প মজুরিতে তাদের দিনাতিপাত করতে হয়। ফলে ভালো করে দুই বেলা খেতে পারেন না, যার প্রভাব পড়ে অপুষ্টিজনিত নানা রোগে আক্রান্তের মাধ্যমে।

শ্রমিক নেতা ও দায়িত্বশীলদের ভাষ্য
চা বাগানের বাসস্থান, কৃষিজ জমি, স্কুল, প্রাথমিক চিকিৎসা, বোনাসসহ সামান্য কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন শ্রমিকরা। কিন্তু দেশীয় বাস্তবতায় চা শ্রমিকদের জন্য দেয়া এসব সুবিধা খুবই নগণ্য বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল এ-প্রসঙ্গে বলেন, ‘একজন চা শ্রমিক দৈনিক যে মজুরি পান সেটি মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট নয়। যে সুবিধা পাওয়ার কথা তার সঙ্গে চা শ্রমিকদের মজুরি ও সুবিধার কোনো মিল নেই। চায়ের দাম কম থাকার কারণে মজুরি ও সুবিধা বাড়াতে পারছেন না বলে দাবি করেন মালিকেরা। শ্রমিকেরা কাজে ফাঁকি দেন না, তবে উৎপাদিত চায়ের ন্যায্যমূল্য না পেলে তাতে শ্রমিকের কোনো দায় থাকার কথা নয়।’

বাংলাদেশ চা বোর্ডের সাবেক উপপরিচালক (পরিকল্পনা) মুনির আহমেদ বলেন, ‘চায়ের মান বৃদ্ধি ও হেক্টরপ্রতি উৎপাদন খরচ কমাতে না পারলে বাগানগুলো কোনোভাবেই শ্রমিককে বাড়তি মজুরি দিতে পারবে না। ভারত, শ্রীলঙ্কা, কেনিয়াসহ প্রতিযোগী দেশগুলো বাংলাদেশের চেয়েও ভালো মানের চা উৎপাদন করে শ্রমিকদের বাড়তি মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। আমরা কেন শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পারছি না সেসব বিষয়ে কেউই গভীর অনুসন্ধান করছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকরা মাঠে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু ভারতসহ আশপাশের দেশগুলোর সমপরিমাণ বাগান থেকে অর্ধেকেরও কম চা উৎপাদন করছেন। এতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, চুক্তি কিংবা বৈজ্ঞানিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে চায়ের মান বৃদ্ধি, খরচ কমাতে উৎপাদন বাড়ানোসহ নানামুখী উদ্যোগ নিতে হবে। চা বোর্ডকে ঢেলে সাজানো ছাড়া চা খাত ও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশী চা সংসদের সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, ‘চা উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু সে তুলনায় নিলামে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ মালিকই লোকসান দিয়ে চা বিক্রি করছেন। শ্রমিকের বেতন-ভাতা ও সুবিধা দিতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।’

শ্রমিকদের কম মজুরির বিষয়ে তিনি ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, ‘চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, রেশনসহ নানা সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্ধারণ করা পদ্ধতিতে চা শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে। দৈনিক মজুরিকে প্রাধান্য না দিয়ে সার্বিক হিসাব বিবেচনা করলে বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা আগের তুলনায় ভালো সুবিধা পাচ্ছেন।’

কারণ কী?
চা শিল্পে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো ক্রমে আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতিতে ঝুঁকছে। এখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে অনেকটাই। রয়েছে ব্যবস্থাপনা জটিলতা। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে নিলামগুলোয় চায়ের দাম আশানুরূপ না হওয়ায় বাগানগুলো টিকে থাকার প্রয়োজনে কৃচ্ছ্রতা দেখাচ্ছে শ্রমিকের মজুরিতে। এতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চা উৎপাদনে সম্পৃক্ত থাকা মানুষগুলোর জীবনের পরিবর্তন ঘটছে না। বছর বছর মাত্র ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি আর নামমাত্র মূল্যের সাপ্তাহিক রেশন কিংবা বাসস্থানসহ অপ্রতুল শিক্ষা-চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে অনিশ্চিত জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চা উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত লক্ষাধিক চা শ্রমিক।

বাংলাদেশে চা উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে হেক্টরপ্রতি উৎপাদনে পিছিয়ে থাকা। বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীনে একটি চা গবেষণা কেন্দ্র থাকলেও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদনসংবলিত কোনো চায়ের জাত উদ্ভাবন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বিশ্বে এখন হেক্টরপ্রতি (বছরে) ১০ হাজার কেজি পর্যন্ত চায়ের ক্লোন জাত উদ্ভাবন হলেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয় তিন হাজার কেজি।

বাংলাদেশে চা খাতের উন্নয়নে গবেষণায় কাজ করছে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)। চা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২৩টি ক্লোন ও পাঁচটি বীজ জাত উদ্ভাবন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ ক্লোন চা উৎপাদনের রেকর্ড রয়েছে হেক্টরপ্রতি তিন হাজার কেজি। যদিও বর্তমানে ভারতের (সর্বভারতীয়) ক্লোনগুলোর সর্বোচ্চ উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার কেজি। দক্ষিণ ভারতের উদ্ভাবিত ক্লোনগুলোর হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ৮-১০ হাজার কেজি। এভাবে কেনিয়া ছয় হাজার ও শ্রীলংকা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কেজি চা উৎপাদনে সক্ষম। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অর্ধেকেরও কম চা উৎপাদনে সক্ষম হওয়ায় বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন চা শ্রমিকরা।

দেশে বর্তমানে চা বাগানের সংখ্যা ১৭০। এছাড়া উত্তরবঙ্গে ক্ষুদ্রায়তন চাষি ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামেও চা চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করেন ৯৭ হাজার স্থায়ী শ্রমিক। এছাড়া প্রতি বছর চা চাষের সঙ্গে অস্থায়ীভাবে আরও ৪০-৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সব মিলিয়ে দেশে চা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার। প্রতি বছর চা চাষ বৃদ্ধির পাশাপাশি চা খাতকে সুরক্ষা দিতে প্রায় এক দশক ধরে চা আমদানিতে কঠোর শুল্কারোপ করেছে সরকার। নিয়ন্ত্রণমূলক পদ্ধতি চালু হলেও চা গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে না পারায় পিছিয়ে পড়ছে খাতটি। এতে সবচেয়ে বেশি নাজুক ও সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন খাতটির অন্যতম অংশীদার চা শ্রমিকরা।

চা বোর্ড এর ইতিহাস
বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইটে সূত্রে চা বোর্ডের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, পাকিস্তান টি অ্যাক্ট-১৯৫০ এর অধীনে ১৯৫১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান টি বোর্ড গঠন করা হয়। ১৯৫৯ সালের ০৮ আগস্ট পাকিস্তান টি অ্যাক্ট-১৯৫০ বাতিল করে টি বোর্ড পরিচালনার লক্ষ্যে চা অধ্যাদেশ ১৯৫৯ জারি করা হয়। ১৯৭৭ সালে চা অধ্যাদেশ-১৯৫৯ বাতিল করে চা অধ্যাদেশ -১৯৭৭ জারি করা হয় এবং এ অধ্যাদেশের অধীনে বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ০১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে এক গেজেটের মাধ্যমে চা অধ্যাদেশ-১৯৭৭ রহিত করে সরকার চা আইন,২০১৬ জারি করেন। চা আইন, ২০১৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ চা বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের আওতাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান হলো: বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (Bangladesh Tea Research Institute-BTRI) এবং প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট (Project Development Unit-PDU)

বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে চা শিল্পের উন্নয়ন তথা চায়ের উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নতুন চা বাগান প্রতিষ্ঠা ও পরিত্যক্ত চা বাগান পুনর্বাসন, বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের উপর উপ-কর আরোপ এবং তার সহায়ক অন্যান্য বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সামগ্রিকভাবে চা শিল্পের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা। বাংলাদেশ চা বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের ভিশন ও মিশন
রূপকল্প (Vision): দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির জন্য অধিক চা উৎপাদন।

অভিকল্প (Mission): চা বাগানের চা চাষযোগ্য জমি চিহ্নিতকরণপূর্বক এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করা, ক্ষুদ্র চা চাষে উৎসাহ প্রদান, চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানোন্নয়ন, চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও চা রপ্তানির হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.