Sylhet Today 24 PRINT

কেন ব্রাজিলের নাম ‘সেলেসাও’? জেনে নিন নামের ইতিহাস, ‘জোগো বোনিতো’ ও সাম্বা রহস্য

স্পোর্টস ডেস্ক |  ১৪ জুলাই, ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় দলগুলোর একটি ব্রাজিল। পেলে, গারিঞ্চা, জিকো, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনিয়ো, কাকা কিংবা নেইমারের মতো ফুটবল জাদুকরেরা যে দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন, তাদের ফুটবলীয় ঐতিহ্য আর বৈশ্বিক পরিচিতি আর দশটি দলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল ফুটবল দল যেমন ‘সেলেসাও’ নামে পরিচিত, তেমনই তাদের খেলার ধরনকে বলা হয় ‘জোগো বোনিতো’। আর এই সৌন্দর্যের সমান্তরালে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, তা হলো— ‘সাম্বা ফুটবল’।

জানেন কি, এই নামগুলোর পেছনের ইতিহাস কী?

‘সেলেসাও’ শব্দের অর্থ কী?
‘সেলেসাও’ (Seleção) মূলত একটি পর্তুগিজ ভাষার শব্দ। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘নির্বাচিত দল’ (The Selected) বা ‘জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী দল’। পর্তুগিজ ভাষাভাষী অন্যান্য দেশে যে-কোনো জাতীয় ক্রীড়া দলকে বোঝাতে এই শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের পরিমণ্ডলে ‘এ সেলেসাও’ বললেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের মানুষ একনামে কেবল ব্রাজিল জাতীয় দলকেই চেনে।

দীর্ঘদিনের অসাধারণ ফুটবল ঐতিহ্য এবং শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই এই সাধারণ শব্দটি আজ ব্রাজিলের একচেটিয়া বৈশ্বিক পরিচয়ে পরিণত হয়েছে。

ব্রাজিল ফুটবলকে কেন ‘জোগো বোনিতো’ বলা হয়?
ফুটবল বিশ্বে ব্রাজিল মানেই শুধু জয়-পরাজয় নয়, বরং নান্দনিকতা আর মাঠের ভেতরের শৈল্পিক বিনোদন। ব্রাজিলের এই চমত্কার খেলার ধরনকে পর্তুগিজ ভাষায় বলা হয় ‘জোগো বোনিতো’ (Jogo Bonito), যার আক্ষরিক অর্থ হলো ‘সুন্দর খেলা’ (The Beautiful Game)।

ব্রাজিলীয়রা ফুটবলকে কেবল একটি শক্তিনির্ভর খেলা হিসেবে দেখে না; তাদের কাছে ফুটবল হলো এক ধরনের নাচ, ছন্দ আর আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম। মাঠে ড্রিবলিং, পাসিং ও পায়ের জাদুতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার এই ছন্দময় ও নান্দনিক শৈলীকে বোঝাতেই বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ফুটবলপ্রেমীরা ব্রাজিল ফুটবলকে ‘জোগো বোনিতো’ বলে সম্বোধন করেন।

ফুটবল ইতিহাসের মহানায়ক পেলে তাঁর আত্মজীবনী ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করার পর এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল খেলার সমার্থক শব্দ হিসেবে স্থায়ী রূপ লাভ করে।

ফুটবলের সঙ্গে ‘সাম্বা’র মেলবন্ধন:
ব্রাজিল ফুটবলকে বুঝতে হলে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘সাম্বা’ (Samba) নৃত্যকে বুঝতে হবে। সাম্বা মূলত ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের আফ্রো-ব্রাজিলীয় নাচ ও গানের ছন্দ, যা দেশটির কার্নিভালের মূল আকর্ষণ। ব্রাজিলিয়ানরা যখন মাঠে ফুটবল খেলে, তখন তাদের পায়ের কাজ, শরীরের দোলা আর গতিশীল ড্রিবলিংয়ের মধ্যে এই সাম্বা নাচের এক অদ্ভুত প্রতিফলন দেখা যায়।

ফুটবল মাঠে যখন কোনো খেলোয়াড় চোখের পলকে শরীর দুলিয়ে প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বেরিয়ে যান, তখন তাকে বলা হয় ‘সাম্বা ম্যাজিক’। ফুটবল আর এই লোকনৃত্যের মেলবন্ধনেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ‘সাম্বা ফুটবল’ পরিভাষাটি। ব্রাজিলীয় খেলোয়াড়দের গোল উদযাপনের চিরাচরিত নাচেও এই সাম্বার চিরচেনা রূপটি বারবার ফুটে ওঠে।

হলুদ জার্সির গল্প ও ‘কানারিনহো’
শুধু ‘সেলেসাও’ বা ‘জোগো বোনিতো’ নয়, ব্রাজিল ফুটবল দলের আরেকটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ডাকনাম রয়েছে—‘কানারিনহো’ (Canarinho)। পর্তুগিজ এই শব্দটির অর্থ হলো ‘ছোট ক্যানারি পাখি’।

এই নামকরণের পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক পটভূমি। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের মাঠে মারাকানা ট্র্যাজেডির (উরুগুয়ের কাছে পরাজয়) পর ব্রাজিল তাদের পুরোনো সাদা জার্সি স্থায়ীভাবে বর্জন করে। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে তারা সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের বিখ্যাত হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামা শুরু করে। এই উজ্জ্বল হলুদ জার্সির কারণে দলটিকে বিখ্যাত হলুদ রঙের ক্যানারি পাখির সঙ্গে তুলনা করা শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে ‘কানারিনহো’ নামটি ফুটবলার ও সমর্থকদের মাঝে গভীর আবেগের জায়গা তৈরি করে নেয়।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই ডাকনাম ও ফুটবলীয় দর্শনগুলো কেবল কিছু শব্দমাত্র নয়, বরং তা বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের সামর্থ্য, ঐতিহ্য এবং কোটি ভক্তের ভালোবাসার এক জীবন্ত প্রতীক।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.