Sylhet Today 24 PRINT

যেভাবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৪ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদ। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান, তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। দৃশ্যত এটি একটি একক ব্যক্তির নির্বাচন মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রের বেশ কিছু আইনি জটিলতা, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ থেকে ৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং মেয়াদের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন না। এটি একটি পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই কেবল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে পারেন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে একজন প্রার্থীকে সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রার্থীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ৩৫ বছর এবং তাঁকে অবশ্যই জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। তবে পূর্বে কখনো সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অভিশংসিত হলে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে তফসিল ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি পদে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। প্রতিটি প্রার্থীর প্রস্তাবের পক্ষে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং অন্য একজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হতে হয়। কমিশন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে।

যদি বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা একজনই হন এবং তিনি নাম প্রত্যাহার না করেন, তবে নির্বাচন কমিশন তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ ভবনে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং সংসদে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রার্থী বিজয়ী হন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাই সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। যদিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হয়, বাস্তবতায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট যে প্রার্থীকে বেছে নেয়, তাঁর বিজয়ী হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে অধিষ্ঠিত থাকেন। একজন ব্যক্তি পরপর বা মোট দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারেন না। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করান। শপথের পরপরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবকের হলেও, এর নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষভাবে জাতীয় সংসদের রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল। মূলত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাদের হাতে আইনসভার দায়িত্ব তুলে দেয়, সেই সংসদই পরোক্ষভাবে নির্ধারণ করে দেয় দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতিকে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.