Sylhet Today 24 PRINT

ঐ দেখা যায় রাজবাড়ী, এইখানে মোদের জৈন্তেশ্বরী

আব্দুল হাই আল-হাদী |  ২৩ জুলাই, ২০১৬

সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে জৈন্তাপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছেই ’জৈন্তেশ্বরী বাড়ী’র অবস্থান। প্রাচীন আমলের উঁচু দেয়াল ঘেরা বিশাল বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। জাফলং, লালাখাল আর শ্রীপুর বেড়াতে আসা লোকজন প্রায়ই ঐতিহাসিক এ বাড়ী দেখতে আসেন। এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। অনেকে এ বাড়িকে ভুল করে ’জৈন্তাপুর রাজবাড়ী’ হিসেবেও আখ্যায়িত করে থাকেন।  শিক্ষিত অনেক মানুষও নিজের অজ্ঞাতবশত: এ বাড়িকে রাজবাড়ী মনে করেন। কখনও তা মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য নিয়ে  জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেন।

প্রকৃতপক্ষে জৈন্তাপুর রাজবাড়ী ও জৈন্তেশ্বরী বাড়ী সম্পূর্ণ আলাদা দুটি নিদর্শন এবং দু’টির অবস্থান আধা-কিলোমিটারের দূরত্বের মধ্যেই অবস্থিত। রাজার বাসস্থান আর রাজার পূজিত দেবী ’জৈন্তেশ্বরী’ র বাসস্থান দু’টিকে গুলিয়ে ফেলা কোনভাবেই উচিত নয়।  

'জৈন্তেশ্বরী বাড়ী’ মূলত: সিন্টেং বা জৈন্তা রাজাদের পূজিত দেবতার বাড়ী । জৈন্তার রাজা যশোমানিক ১৬১৮ সালে অত্যন্ত আড়ম্বরে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত কালি দেবীর মূর্তিকে এ বাড়ীতে স্থাপন করেন এবং বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়ীটির মধ্যখানে মূল মন্দির ঘরটির অবস্থান। বর্তমানেও মূল ঘরটির ভিটা এবং সংলগ্ন দক্ষিণের ঘরটি নানা দৈব-দুর্বিপাকের মধ্যেও দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা সংস্কার করে একদল হিতৈষী ব্যক্তি ঘরটি ’ইরাদেবী মিলনায়তন’ নামকরণ করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাঝে মাঝে এতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ঘরটি টিনের তৈরি এবং সমতল থেকে প্রায় ৪/৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। কয়েকটি সিঁড়ি বেয়ে ঘরটিতে প্রবেশ করতে হয়। ঘরটির স্তম্ভগুলো লোহার এবং স্থাপত্যশৈলী বেশ দৃষ্টিনন্দন। ঘরটির পশ্চিম দিকে দেয়াল সংলগ্ন প্রায় দু’ফুট উঁচু পাকা মঞ্চ ধাঁচের একটি জায়গা আছে, যেটি ’চণ্ডীর থালা’ নামে পরিচিত। বিগত কয়েক দশক আগেও এখানে একজন ব্রাহ্মণ বসবাস করতেন। এ ঘরটি সংলগ্ন পেছনের দিকে আরেকটি ঘর ছিল, যেটির কয়েক ফুট উঁচু পাকার ভিটা এখনও দেখা যায়। এ ঘরটিই মূল মন্দির ঘর ছিল এবং এটি আয়তাকার। ভিত থাকলেও উপরের কাঠামোটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। সম্ভবত: এখানে জৈন্তেশ্বরী দেবী অধিষ্ঠিত ছিলেন । ঘরটি যে খুরই মজবুত ও সুরক্ষিত ছিল , তা বর্তমান ধ্বংসাবশেষ দেখেই নিশ্চিত হওয়া যায়। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে দেবীর মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়।