Sylhet Today 24 PRINT

দুই হামলাকারী শরণার্থী সেজে গ্রীস হয়ে ফ্রান্সে ঢুকেছিল!

সিলেটটুডে ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক |  ১৬ নভেম্বর, ২০১৫

শরণার্থীদের ভিড়ে জঙ্গিরা ঢুকতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইউরোপের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা। প্যারিস হামলায় অন্তত এমন দু’জন জঙ্গির সূত্র মেলায় বিপাকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। এই হামলার সঙ্গে শরণার্থী সমস্যার কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল। কিন্তু তদন্ত যে অভিমুখে এগোচ্ছে, তাতে তাঁর সেই দাবি ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্যারিসে হামলাকারীদের মধ্যে শরণার্থীর ছদ্মবেশে অন্তত দু’জন গ্রিস হয়ে ফ্রান্সে ঢুকেছিল বলে এখনও পর্যন্ত তদন্তে ইঙ্গিত। হামলার পিছনে আইএসের অন্তত তিনটি দল আলাদা ভাবে সক্রিয় ছিল বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু এরা কবে এবং কী ভাবে শহরে ঢুকেছিল, কোথা থেকেই বা অর্থের জোগান এসেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।

স্তাদ দো ফ্রঁসের গেটের বাইরে থেকে রোববার একটি সিরীয় পাসপোর্ট উদ্ধার করে পুলিশ। এর মালিক যে অক্টোবরে শরণার্থী সেজেই গ্রিসের লোরোস দ্বীপে ঢুকেছিল, তা নিশ্চিত করেছে গ্রিস। সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, বাতাক্লাঁ হল থেকে যে সিরীয় পাসপোর্ট মিলেছে, তার মালিক বছর আহমেদ আলমুহামেদ (২৫)। তদন্তকারীরা অবশ্য এ নিয়ে কোনও কিছু জানাননি।

বাতাক্লাঁ থেকে পাওয়া আরও দুই সন্দেহভাজনের আঙুলের ছাপ ও তাদের একজনের সিরীয় পাসপোর্ট যাচাই করতে গ্রিসকে অনুরোধ জানায় ফ্রান্স। যার উত্তরে গ্রিস জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এই দ্বিতীয় হামলাকারীও একই ভাবে লেরোসে ঢুকেছিল। কিন্তু এই দু’টি পাসপোর্ট আসল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্টেডিয়ামের বাইরে আরও দু’টি তুরস্কের পাসপোর্ট মিলেছিল, যা তদন্তে ভুয়ো প্রমাণিত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।


হামলায় শরণার্থী যোগ উড়িয়ে দিচ্ছে না ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তবে শরণার্থী-নীতি বদলের কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। হামলার কারণ নিয়েও চলছে বিভিন্নমত। পশ্চিমী দুনিয়াকে শিক্ষা দিতেই আইএসের এই হামলা করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। ন্যাটোর প্রধান জেন্স স্টোলটেনবার্গ অবশ্য তা মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র ধ্বংস করতেই হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। এর সঙ্গে পশ্চিম-বিরোধিতার কোনও সম্পর্ক নেই।

ধন্দ রয়েছে জঙ্গিদের সংখ্যা নিয়েও। গত কাল পর্যন্ত ফ্রান্স ৮ জনের কথা বলেছিল। আজ অবশ্য পুলিশ জানিয়েছে সংখ্যাটা ৭। অন্য একটি সূত্র অবশ্য জানাচ্ছে, এক জঙ্গি বাতাক্লাঁ হলে হামলার পরেই পলাতক। তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। হামলাকারীদের মধ্যে এক জন মহিলা জঙ্গি ছিল বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

অন্তত তিন জন ফরাসি মুসলিম নাগরিকও সেই দলে ছিল বলে এখনও পর্যন্ত তদন্তে উঠে এসেছে। বেলজিয়ামে বসবাসকারী তিন ফরাসি ভাইকে ঘিরেও জোরদার হচ্ছে তদন্ত। কারা এই ত্রয়ী? এক ভাই আবদেসলাম সালাহ-র নামে এরই মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ফ্রান্স পুলিশ।

বাতাক্লাঁ হলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত এক জঙ্গিকে গত কালই ফরাসি নাগরিক বলে শনাক্ত করেছিল পুলিশ। আজ তার পরিচয় মিলেছে। প্রশাসনের দাবি, নিহত ওই জঙ্গির নাম ওমর ইসমাইল মোস্তেফি (২৯)। এই সূত্রে প্যারিস থেকে ওমরের বাবা ও দাদা-সহ মোট ৬ জন আত্মীয়কে আটক করেছে পুলিশ।

-আনন্দবাজার

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.