Sylhet Today 24 PRINT

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লতা মঙ্গেশকরকে শেষ বিদায়

সিলেটটুডে ডেস্ক: |  ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ছবি: এএফপি

ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে রোববার সকাল ৮টা ১২ মিনিটে মৃত্যু হয় ‘নাইটিঙ্গেল অফ ইন্ডিয়া’খ্যাত লতা মঙ্গেশকরের। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

লতা মঙ্গেশকরের ভাই হৃদয়নাথ মুখাগ্নি করেছেন।

এর আগে শিবাজি পার্কে লতা মঙ্গেশকরকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোকবার্তা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

সোমবার কলকাতার রবীন্দ্রসদনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত লতা মঙ্গেশকরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন তার অনুরাগীরা।

লতা মঙ্গেশকরকে শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার অর্ধদিবস পশ্চিমবঙ্গের সরকারি অফিসে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিন লতা মঙ্গেশকরকে শ্রদ্ধা জানাতে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বাজবে তার গান।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় লতাকে। তার নিউমোনিয়াও ধরা পড়েছিল।

মৃদু উপসর্গ থাকা লতাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল।

উন্নতির লক্ষণ দৃশ্যমান হওয়ায় ২৮ জানুয়ারি লতার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খোলা হয়, তবে ৫ ফেব্রুয়ারি আবার অবস্থার অবনতি হয় শিল্পীর। তাকে ফের ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়।

অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কষ্টকর থেরাপি নিতে হয়েছিল লতাকে। এর মধ্যেই প্রাণ হারান তিনি।

লতার তুমুল জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘এক পেয়ার কা নাগমা হ্যায়’, ‘রাম তেরি গঙ্গা মাইলি’, ‘এক রাধা এক মিরা’, ‘দিদি তেরা দেবর দিওয়ানা’।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। ১৯৬৯ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ পান লতা। ১৯৯৯ সালে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মবিভূষণ’ দেয়া হয় এ শিল্পীকে।

২০০১ সালে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘ভারতরত্ন’ পান লতা। ২০০৯ সালে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা অফিসার অফ দ্য লিজন অফ অনার দেয়া হয় লতাকে।

১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্মগ্রহণ করেন লতা মঙ্গেশকর। পাঁচ বছর বয়স থেকে বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের কাছে গান শেখা শুরু করেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর তার পরিবার মুম্বাইয়ে চলে আসে।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে নিজের প্রথম গান রেকর্ড করেন লতা। সাত দশকের ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ভাষায় ৩০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন এ শিল্পী।

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে লতা ছিলেন সবার বড়। বাকিরা হলেন মীনা খাদিকর, আশা ভোসলে, ঊষা মঙ্গেশকর ও হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.