Sylhet Today 24 PRINT

ইরানের \'কুখ্যাত\' কারাগারে আগুন-গোলাগুলি: নিহত ৪

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৬ অক্টোবর, ২০২২

ইরানের কুখ্যাত ইভিন কারাগারে রাতজুড়ে আগুন ও  কারাগারের ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৪ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৬২ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ দেশটির বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাতভর বন্দীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।  

আইআরএনএ বলছে, আগুনের ধোঁয়ার কারণে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আহত ৬১ জনের মধ্যে ৫১ জনকে বহিরাগত রোগী হিসেবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।রাজনৈতিক বন্দী, সাংবাদিক ও বিদেশি নাগরিকদের আটকে রাখার কারণে তেহরানে এই কারাগারের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কারাগার থেকে আগুন আর ধোঁয়া উড়ছে। সেই সঙ্গে ভিডিওতে বন্দুকের গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে, আগুন এখনো জ্বলছে।

ইরানে গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। গত মাসে ২২ বছর বয়সী কুর্দিশ ইরানিয়ান মাহসা আমিনি পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়ার পর ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তাদের দাবি, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন। কিন্তু মাহসা আমিনির পরিবারের দাবি, তিনি সুস্থ ছিলেন, নৈতিক পুলিশের পিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে।

কারাগারে আগুনের বিষয়ে বিবিসি পার্সিয়ান বিভাগের সাংবাদিক রানা রাহিমপুর বলছেন, কারাগারের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকারীদের কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততা থাকতেও পারে, কারণ শত শত বিক্ষোভকারীকে এই কারাগারে পাঠানো হয়েছে, বলছেন রানা রাহিমপুর।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভের সঙ্গে কারাগারে আগুনের ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই বরং এর পেছনে অপরাধীরা রয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, সাধারণ অপরাধীরা এই দাঙ্গা ঘটিয়েছে, রাজনৈতিক বন্দীরা এর সঙ্গে জড়িত নয়।

তবে ইরাকের সরকারবিরোধী পর্যবেক্ষক গ্রুপ ১৫০০ তাসভিরের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে কারাগারের ভেতর থেকে 'স্বৈরাচার নিপাত যাক' শ্লোগান শোনা যাচ্ছে- যে শ্লোগান সাম্প্রতিক বিক্ষোভকারীরা নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কারাগারের বাইরে থেকে বিভিন্ন বস্তু ভেতরে ছুঁড়ে মারা হচ্ছে, এরপর বিস্ফোরণ ঘটছে। কারাগারের ভেতর থেকে ইরানের সরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তেহরানের গভর্নর দাবি করেছেন, ছোটখাটো অপরাধীদের একটি দল এই দাঙ্গা শুরু করেছে, তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

তবে সেখানে আসলে কি পরিস্থিতি রয়েছে, তা নিয়ে বিভ্রান্ত রয়েছে বলে বলছেন বিবিসি পার্সিয়ানের সাংবাদিক কাসরা নাজি। কারণ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কারাগারে এখনো আগুন জ্বলছে এবং গোলাগুলির শব্দ আসছে।

আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কারাগারের যে অংশে রাজনৈতিক বন্দিদের রাখা হয় এবং বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের যে অংশে পাঠানো হয়েছে, তার ছাদের ওপর কারাবন্দীরা বসে রয়েছেন।

কয়েকজন কারাবন্দীর পরিবার জানিয়েছে, অন্য সময়ে পারলেও তারা তাদের স্বজনদের সঙ্গে এখন টেলিফোনে যোগাযোগ করতে পারছেন না। কারাগারের আশেপাশের ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কারাগার অভিমুখী সবগুলো সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর আগে ভিডিওতে দেখা গেছে, কারাগারের ভেতরে পুলিশ প্রবেশ করছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, কারাগারে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতেও দেখা গেছে। এই কারাগার নিয়ে বহুদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অভিযোগ, কারাগারে বন্দীদের নির্যাতনের করার এবং অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার মতো হুমকি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা ও স্বাস্থ্য সেবা না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলে ব্রিটিশ-ইরানী দ্বৈত নাগরিক নাজানিন জাঘারি-র‍্যাটক্লিফ এবং অনোশেহ আশারিকে এই কারাগারেই আটকে রাখা হয়েছিল, যে অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন। এই বছরের শুরুর দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.