সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫
আর বন্দুক নয়, বাড়িতে ফিরতে চান অনুপ চেটিয়া। বাংলাদেশে প্রায় ১৭ বছর কারাগারে কাটানোর পর গত মাসে ভারত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা ভারতের আসাম রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াকে। আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
অনুপ চেটিয়া বলেন, বাংলাদেশে কারাগারে থাকার সময় সহযোগিতার জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের বর্তমান সরকার, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিগত সরকার, বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের কারা কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অনুপ চেটিয়া। কারাগারে থাকার সময়ও সব সময় বাড়ির মতো পরিবেশ অনুভব করেছেন বলে মন্তব্য করেন অনুপ।
গুয়াহাটির আদালতে প্রথম দিন দেখা করতে গিয়ে নিজের স্ত্রীকেই চিনতে পারেননি তিনি। ভুলে গিয়েছেন সন্তানদের চেহারাও। ৬৪ বছর বয়সী অনুপ চেটিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার আসামের গুয়াহাটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে থেকে জামিনে মুক্তি পান। দায়েককৃত ৪টি মামলার মধ্যে শেষটিতে গত বুধবার তাকে জামিন দেন আদালত। মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে দ্রুত অজ্ঞাত স্থানে চলেন যান চেটিয়া।
তবে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যেতে পারেননি। মুক্তি পেয়ে কেমন লাগছে? এত দিন ধরে বিদেশের মাটিতে থেকে কি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন?
জবাবে চেটিয়া বলেন, বাংলাদেশের কারাগার থেকে বেরোনোর পরই মুক্তির স্বাদ পেয়ে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশ পেরিয়ে যখন মেঘালয়ের দাউকিতে ঢুকি, তখন প্রাণভরে স্বদেশের গন্ধ নিয়েছি। ভেবেছিলাম, ওখান থেকে সোজা গোয়াহাটি আসব। কিন্তু পথে মত বদল করে সিবিআই আমায় দিল্লি নিয়ে যায়। তবু হতাশ হইনি। জানতাম, ফাঁসির সাজা যখন হয়নি, তখন মুক্তি এক দিন পাবই।
১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী ছিলেন উলফার নেতা। গত মাসে তাকে এবং তার দুই সহযোগী লক্ষ্মী প্রসাদ গোস্বামী ও বাবুল শর্মাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) অন্যতম শীর্ষ নেতা অনুপ চেটিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান এবং অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রা ও একটি স্যাটেলাইট ফোন রাখার অভিযোগে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।