সিলেটটুডে ডেস্ক | ২২ জুন, ২০২৫
ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রোববার (২২ জুন) দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ সময় সকাল পৌন ৬টার দিকে এ তথ্য জানান।
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথে লিখেন, আমরা ইরানে পারমাণবিক কেন্দ্রতে সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছি। যারমধ্যে আছে ফর্দো, নাতানজ এবং ইসফাহান। (হামলায় অংশ নেওয়া) সব বিমান এখন ইরানি আকাশসীমার বাইরে রয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, মাটির ২৬২ ফুট গভীরে থাকা ফর্দো পরমাণু কেন্দ্রে ভারী বোমা ফেলেছেন তারা। হামলা চালানো বিমানগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছে।
হামলা সফল হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “আমাদের আমেরিকান যোদ্ধাদের অভিবাদন জানাই। পৃথিবীর অন্য কোনো সামরিক শক্তি নেই যারা এটি করতে পারত। এখন হলো শান্তির সময়। এ বিষয়ে মনযোগ দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।”
ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর ধন্যবাদ
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রোববার (২২ জুন) এল প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
এদিন হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোনে কথা বলেছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিনন্দন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! আপনার নেতৃত্বে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, তা ইতিহাস পাল্টে দেয়ার মতো।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর শাসকগোষ্ঠীকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য পদক্ষেপ নেয়ায় ইতিহাস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মনে রাখবে। আমার ও ইসরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হামলার আগে আমেরিকা ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ যোগাযোগ রক্ষা করেছে।
হামলার আগে পারমাণবিক উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার দাবি ইরানের
৩ পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে সেখানকার উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান। ফলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটি।
রোববার (২২ জুন) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদীর বরাত দিয়ে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মাহদি মোহাম্মদী বলেছেন, ফোরদোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে ইরান আগে থেকেই জানতে পেরেছিল। তাই অনেক আগেই এই স্থানটি খালি করা হয়েছে এবং আক্রমণে কোনো অপূরণীয় ক্ষতি হয়নি।
তিনি বলেন, দুটি জিনিস নিশ্চিত, প্রথমত, বোমা মেরে জ্ঞান ধ্বংস করা যাবে না এবং দ্বিতীয়ত, জুয়াড়িরা এবার হেরে যাবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির উপ-রাজনৈতিক পরিচালক হাসান আবেদিনি বলেন, আগেই আমরা তিনটি পরমাণু কেন্দ্র আগেই খালি করে ফেলেছিলাম। যদি ট্রাম্পের কথা সত্যি হয়ও আমরা বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়িনি। কারণ পারমাণবিক উপকরণ আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
এদিকে শান্তি স্থাপন না হলে ইরানে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ হুমকি দেন তিনি।
আরও হামলার হুমকি ট্রাম্পের
শান্তি স্থাপন না হলে ইরানে আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দেশটিতে আরও লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে।
রোববার (২২ জুন) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আল জাজিরার এক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, হয় শান্তি স্থাপন হবে, না হয় ইরানের জন্য এক মর্মান্তিক পরিণতি ঘটবে। গত আট দিনে যা ঘটেছে, তার চেয়েও ভয়াবহ হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, এখনও অনেক লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে। আজ রাতের লক্ষ্য ছিল সবচেয়ে কঠিন এবং সবচেয়ে বৈধ। যদি দ্রুত শান্তি না আসে, তাহলে আমরা সেই অন্য লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও আঘাত করব নিখুঁতভাবে, দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি নেতানিয়াহুকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমরা এমন একটি দল হিসেবে কাজ করেছি, যেমনটি সম্ভবত এর আগে কখনো কেউ করেনি। আমরা ইসরাইলের জন্য ভয়াবহ হুমকি মুছে ফেলার পথে অনেক দূর এগিয়েছি।
ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলাকে ‘চমৎকার সামরিক সাফল্য’ উল্লেখ করে বলেন, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা বন্ধ করা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রধান রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশ হিসেবে ইরান যে পারমাণবিক হুমকি সৃষ্টি করছে, তা থামানো। আমি বিশ্বের সামনে জানাতে পারি আজ রাতের হামলা ছিল এক চমৎকার সামরিক সাফল্য।
ইসরায়েল জুড়ে উচ্চসতর্কতা জারি
ইরানের ৩ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উচ্চসতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। বন্ধ রয়েছে দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সবকিছু।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হোম ফ্রন্ট কমান্ড সব স্কুল, গণজমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। অতি প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া সাধারণ মানুষকে বাইরে বের না হতেও নির্দেশনা দিয়েছে তারা।