জুয়েল রাজ, লন্ডন | ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬
যাত্রীর গলার হার ছিনতাই হওয়া ঠেকাতে চোরকে ধরে ফেললেও শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হলো লন্ডনের এক বাসচালককে। ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়’ সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশংসা কুড়ালেও, কোম্পানির শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মার্ক হিহির (Mark Hehir) ২০২৪ সালের জুন মাসে ওয়েম্বলি থেকে মেইডা ভেলগামী ২০৬ নম্বর বাস চালাচ্ছিলেন। ওই সময় এক ব্যক্তি বাসে উঠে এক নারী যাত্রীর গলা থেকে হার ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝে হিহির বাস থেকে নেমে চোরের পিছু নেন এবং তাকে ধরে ফেলতে সক্ষম হন। পরে তিনি উদ্ধার করা হারটি ওই নারী যাত্রীর কাছে ফিরিয়ে দেন।
তবে চোরকে ধরতে গিয়ে বাসের ইঞ্জিন চালু অবস্থায় রেখে যাওয়ায় হিহিরকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। দুই বছর ধরে মেট্রোলাইনে (Metroline) কর্মরত এই চালকের বিরুদ্ধে কোম্পানিকে ‘অসুনাম’ করার অভিযোগ আনা হয় এবং তাকে শাস্তিমূলক শুনানির মুখোমুখি করা হয়।
ঘটনার এক পর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে হিহির অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একবার আঘাত করেন, এতে ওই ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর তাকে ফুটপাতে টেনে নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আটকে রাখেন তিনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয় ব্যক্তিকে আটক করলেও পরে হিহিরকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে তার বিরুদ্ধে আর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় হিহির যে শক্তি প্রয়োগ করেছেন তা ছিল “প্রয়োজনীয় ও যুক্তিসঙ্গত” এবং তা তিনি নিজে ও নারী যাত্রীর আত্মরক্ষার জন্যই করেছেন।
তবে ঘটনার পরদিনই হিহিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং একটি তদন্তে হাজির হতে বলা হয়। শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত শুনানিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে তিনি একজন যাত্রীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন এবং বাসটি ইঞ্জিন চালু অবস্থায় ফেলে রেখে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছেন।
শুনানিতে হিহির বলেন, তিনি “তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়” চোরের পিছু নিয়েছিলেন এবং বাসের দরজা খোলা ও হ্যান্ডব্রেক টানা ছিল। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাসে ফিরে এলে নারী যাত্রীটি ভীষণ ভীত হয়ে পড়েছিলেন।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একজন যাত্রীকে রক্ষা করার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নেওয়াই কি শেষ পর্যন্ত একজন চালকের চাকরি হারানোর কারণ হওয়া উচিত?