Sylhet Today 24 PRINT

শেষকৃত্যের প্রস্তুতির মাঝেই গর্তযুক্ত রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সের ঝাঁকুনিতে জেগে উঠল নারীর প্রাণ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১২ মার্চ, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

শেষ বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে মলিন হয়ে আসছে। অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতরে নিস্তব্ধতা। স্ট্রেচারের উপর নিথর হয়ে শুয়ে আছেন বিনীতা শুক্ল। পাশে বসে আছেন তাঁর স্বামী কুলদীপ শুক্ল—চোখ ভেজা, বুক ভরা শূন্যতা।

কিছু ঘণ্টা আগেই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন—আর কোনও আশা নেই। তাঁরা বলেছিলেন, বিনীতার মস্তিষ্ক আর কাজ করছে না। “ব্রেন ডেড”—এই দুটি শব্দ যেন কুলদীপের জীবনের সব আলো নিভিয়ে দিয়েছিল।

অসহায় কণ্ঠে তিনি বাড়িতে ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, “সব প্রস্তুতি শুরু করো… হয়তো আজই শেষকৃত্য করতে হবে।”

অ্যাম্বুল্যান্স তখন ভারতের উত্তর প্রদেশের বরেলী–হরিদ্বার ৭৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এগিয়ে চলেছে। জানালার বাইরে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে রাস্তার দৃশ্য, আর কুলদীপের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে বহু বছরের সংসারের স্মৃতি—হাসি, অভিমান, ছোট ছোট সুখের মুহূর্ত।

হঠাৎই একটি বড় গর্তে পড়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেল অ্যাম্বুল্যান্স। যেন মুহূর্তের জন্য সবকিছু কেঁপে উঠল।

ঝাঁকুনির পর কুলদীপের চোখ হঠাৎ স্ত্রীর মুখে আটকে গেল। তিনি যেন কিছু একটা অদ্ভুত লক্ষ্য করলেন।
বিনীতার বুক ধীরে ধীরে উঠানামা করছে।

প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। একটু ঝুঁকে আবার দেখলেন। সত্যিই—শ্বাস চলছে! ঠোঁট নড়ছে সামান্য।

কুলদীপের বুকের ভেতর ধক করে উঠল। “ড্রাইভার! গাড়ি ঘোরাও… দ্রুত হাসপাতালে ফিরে চল!”—চিৎকার করে উঠলেন তিনি।

অ্যাম্বুল্যান্স আবার ছুটল হাসপাতালের দিকে।

তারপর আরও কয়েক দিন চিকিৎসা চলল। চিকিৎসকেরাও বিস্মিত। যাকে প্রায় মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছেন।

কয়েক দিন পর এক সকালে কুলদীপ তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। বাড়ির উঠোনে পা রাখতেই সবাই অবাক হয়ে দেখল—বিনীতা হাসছেন, স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন।

যে বাড়িতে কয়েক দিন আগে মৃত্যুর প্রস্তুতি চলছিল, সেখানেই আজ ফিরে এসেছে জীবনের আলো।

কুলদীপ স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বললেন, “তুমি সত্যিই মৃত্যুকে হারিয়ে ফিরে এসেছ।”

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর যে চিকিৎসক মহিলাকে দেখেছিলেন, সেই রাকেশ সিংহ টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়াকে জানান, বরেলীর হাসপাতালে মহিলার মস্তিষ্কের সাড় (ব্রেনস্টেম রিফ্লেক্স) পাওয়া যাচ্ছিল না। গ্লাস্‌গো কোমার মাত্রাও তিন পয়েন্টে নেমে গিয়েছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় যা ১৫ পয়েন্টে থাকার কথা। ফলে মহিলার কোনও সাড় পাওয়া যায়নি। তাঁর চোখের পরীক্ষা থেকেও ‘মস্তিষ্কের মৃত্যু’র ইঙ্গিত মিলেছিল। তবে তার পর যা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক, মেনে নিয়েছেন চিকিৎসকও। খবরের তথ্য সূত্র : আনন্দবাজার

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.