Sylhet Today 24 PRINT

আমি চাইলে কিউবা দখল বা মুক্ত, যা খুশি তাই করতে পারি: ট্রাম্প

সিলেটটুডে ডেস্ক  |  ১৭ মার্চ, ২০২৬

প্রতিবেশী দেশ কিউবার বিরুদ্ধে সুর আরও কঠোর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার তিনি বলেছেন, কিউবাকে ‘যে কোনও উপায়ে নিজের দখলে নেওয়া’র সম্মান তিনি পাবেন বলে আশা করছেন এবং দেশটিকে নিয়ে তিনি ‘যা খুশি তাই’ করতে পারেন।

দুই দেশের বৈরি সম্পর্ক উন্নয়নে যখন দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এমন হুমকিমূলক বক্তব্য সামনে এল। ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর গত ৬৭ বছরের মধ্যে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্ক সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সময় পার করছে।

সাবেক ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর ফলে দ্বীপ রাষ্ট্রটি যখন নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত, তখন ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বাস করি... কিউবাকে কোনও না কোনওভাবে দখলে নেওয়ার সম্মান আমি পাব। এটি একটি বড় সম্মান।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি দেশটিকে মুক্ত করি বা দখলে নিই- মানে আমি বলতে চাচ্ছি, কিউবা নিয়ে আমি যা খুশি তাই করতে পারি বলে মনে করি।”

এদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা থেকে সরানোই বর্তমানে ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার সূতত্রের বরাতে পত্রিকাটি জানিয়েছে, মার্কিন আলোচকরা কিউবান প্রতিনিধিদের স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন যে, দিয়াজ-কানেলকে অবশ্যই সরে যেতে হবে, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা কিউবানদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছে তারা।

কিউবার অবস্থান ও জ্বালানি বিপর্যয়:

কিউবা ঐতিহ্যগতভাবেই তাদের অভ্যন্তরীন বিষয়ে যেকোনও হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব এবং একে অপরের রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আশা করেন।

তবে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলে আসছেন যে, কিউবা হবে তার ‘পরবর্তী লক্ষ্য’।

কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ করে এবং কিউবার কাছে তেল বিক্রয়কারী যে কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে চাপ বাড়িয়েছেন তিনি।

এর ফলে গত তিন মাস ধরে কিউবায় কোনো তেলের চালান পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং সোমবার ১ কোটি মানুষের এই দেশটির পুরো বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হয়ে পড়েছে।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা কিউবার সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু কিউবার আগে আমরা ইরানের বিষয়টি শেষ করব।”

গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি প্রেসিডেন্ট কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের বিরোধিতা করলেও ১৯৬২ সালের ‘মিসাইল ক্রাইসিস’-এর পর থেকে ওয়াশিংটন দেশটিতে আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে আসছিল।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও সামরিক হস্তক্ষেপের আইনি ভিত্তি কী হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.