সিলেটটুডে ডেস্ক | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রাষ্ট্রদূত করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। শিগগিরই তিনি সে দায়িত্ব পালন শুরু করবেন বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
তাহলে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার কে হচ্ছেন? এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জনে ভেসে বেড়াচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জ্যেষ্ঠ নেতা আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও কূটনীতি নিয়ে বিশ্লেষণ করা ওয়েবসাইট সাউথ এশিয়ান আপডেট জানাচ্ছে, আরিফ এম. খানই হতে পারেন বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার। ভারতের আমলাতন্ত্র সংক্রান্ত খবরাখবরের ওয়েবসাইট ইন্ডিয়ান ম্যান্ডারিনসও একই ইঙ্গিতের কথা জানিয়েছে।
গুঞ্জন সত্যি হলে একদিক থেকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার নিয়োগে এতদিনের হিসাব-নিকাশ পাল্টে ফেলতে যাচ্ছে ভারত। সুবিমাল দত্ত থেকে শুরু করে প্রণয় ভার্মা পর্যন্ত - বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যে ১৮ জন ভারতীয় হাইকমিশনারের তালিকা পাওয়া যায়, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট। অর্থাৎ তাঁরা ইন্ডিয়ান ফরেইন সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন।
সেদিক থেকে আরিফ মোহাম্মদ খান নিয়োগ পেলে তিনিই হবেন বাংলাদেশে ভারতের প্রথম হাইকমিশনার যিনি ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট নন।
ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটের বাইরে রাজনীতিবিদ, সশস্ত্র বাহিনী বা অন্যান্য সিভিল সার্ভিস থেকে কাউকে অন্য দেশে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার করে পাঠানোর চল অবশ্য ভারতে নতুন নয়। শীতল যুদ্ধের সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রদূতই ছিলেন কূটনীতির বাইরে ভিন্ন পেশার। ভারতের ১২তম প্রধানমন্ত্রী ও গুজরাল ডকট্রিনের প্রবর্তক ইন্দের কুমার গুজরাল ১৯৭৫-৭৭ সালে রাশিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যাওয়া কাশ্মীরি প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ দুর্গা প্রসাদ ধরকে তো সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের বৈদেশিক নীতি ঠিক করে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ধরা হয়। দেশটির দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি সারভেপাল্লি রাধাকৃষ্ণাণ, সাংবাদিক ও লেখক কৃষ্ণারাও শিভা শেলভাঙ্কার…অনেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক বড় দেশেই নানা সময়ে কূটনৈতিকের বাইরে কাউকে রাষ্ট্রদূত করেছে ভারত।
ভারতের আমলাতন্ত্র সংক্রান্ত খবরাখবরের ওয়েবসাইট ইন্ডিয়ান ম্যান্ডারিনস লিখেছে, গত মাসে বিহারের গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আরিফ এম. খানকে। এর আগে কেরালার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। উত্তর প্রদেশ রাজ্য থেকে বিজেপির সংসদ সদস্য আরিফ এম খান ভারতে মুসলিম পুরুষদের তিন তালাকের বিরোধিতা, হিজাবের প্রয়োজনীয়তা, মাদ্রাসায় শিক্ষার ওপর নজরদারি নিয়ে কথা বলে আলোচিত হয়েছিলেন।