সিলেটটুডে ডেস্ক | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
দুই পক্ষই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দাবি করে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সংলাপে বসেছিল। তাই শুরু থেকেই এই সংলাপে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো বেশ কঠিন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করে ইসলামাবাদ ছেড়ে গেছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- এরপর কী হবে? বিবিসির আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা জো ইনউড লিখেছেন, সংলাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি। যা ইরান প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। এখন আলোচনার মাধ্যমে সেটি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেল। উপসাগরে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এবার ভিন্ন পথে এগোতে চাইছে।
ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টর হুমকির পর গত বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তখন বলা হয়েছিল, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির চেষ্টা করা হবে। এখন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইরানে নতুন করে হামলা শুরু হবে কি না সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে আগের হুমকিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফের হামলা শুরুর সম্ভাবনা আছে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধের ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়নি। ইরান সবসময়ই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার কথা অস্বীকার করে আসছে। এখন এক বছরের মধ্যে দুটি যুদ্ধের ঘটনা হয়তো দেশটিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সংক্রান্ত দাবিকে আরও জোরালো করবে।
জো ইনউড লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সরাসরি আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক। কিন্তু ইতিহাসে হয়তো এটি কূটনীতির এক চরম ব্যর্থতা হিসেবেই লেখা থাকবে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রকাশ্যে যে চাপ দিয়েছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও যদি সেই একই সুর বেজে থাকে তাহলে নিকট ভবিষ্যতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
আলজাজিরাকে রস হ্যারিসন বলেন, ‘প্রকাশ্যে যা দেখা গেছে ভেতরেও যদি সত্যিই তাই হয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুবই সংকীর্ণ।’ তবে আশার আলো দেখিয়ে হ্যারিসন বলেন, ‘আশা করি প্রকাশ্যে যা দেখা গেছে সেটা ছিল শুধুই দেখানোর জন্য। আর পর্দার আড়ালে হয়তো সত্যিকারের অগ্রগতি হয়েছে। তবে এটা বুঝতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।’