সিলেটটুডে ডেস্ক | ২২ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। আবার দেশ দুটোর মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে এমন সম্ভাবনায় গতকাল তা কিছুটা কমে এসেছে। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ১৮ সেন্ট বা দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৫ ডলার ৩০ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মে মাসে সরবরাহ চুক্তির মূল্য ৩০ সেন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ ডলার ৩১ সেন্টে।
ডব্লিউটিআইয়ের মে মাসের সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল। এ সময় জুনে সরবরাহ চুক্তিতে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার ৩৫ সেন্টে স্থিতিশীল ছিল।
এর আগে গত সোমবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। এদিন ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেয়া এবং বন্দর অবরোধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করার পর বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের নজর চলতি সপ্তাহের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে। সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখছেন, এ আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়বে কিনা অথবা কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব কিনা। তবে সরবরাহপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক তামাস ভারগা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে বলে আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ইসরায়েল-লেবানন আলোচনাও ফলপ্রসূ হওয়ার অপেক্ষা করছেন তারা।’
তবে বাজারে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় যোগ দেয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ আলোচনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরীয় তুয়াপসে বন্দরে ইউক্রেন ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রোসনেফট মালিকানাধীন এ বন্দর রাশিয়ার জ্বালানিপণ্য রফতানির অন্যতম প্রধান হাব। বিভিন্ন সূত্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলার কারণে এপ্রিলে রাশিয়া দৈনিক তিন থেকে চার লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
এছাড়া ইউরোপে যাওয়ার একমাত্র সচল পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহ বন্ধ রাখাও এ উৎপাদন কমার কারণ। পাশাপাশি ১ মে থেকে কাজাখস্তান হয়ে জার্মানিগামী দ্রুজবা পাইপলাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া।