Sylhet Today 24 PRINT

‘এবার রাম, পরে বাম’: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ‘নেপথ্যে’ বাম ভোটাররা

ইন্ডিয়া টুডে |  ১০ মে, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পতন ঘটেছে। আর উত্থান হয়েছে বিজেপির। আর এই পরিবর্তনে অন্যতম বড় ভূমিকা পালন করেছে বাম দলগুলোর একনিষ্ঠ ভোটাররা।

পশ্চিমবঙ্গের নিউ বারাকপুরে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর একজন কর্মী সঞ্জিত রায়। তিনি বলেন, 'আমাদের দল ততটা শক্তিশালী না হওয়ায় তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই আমাদের সমর্থকেরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।'

গত ৪ মে ভবানীপুর আসনে তৃণমূল নেত্রী ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর নিজের বিজয়ী ভাষণে এই সত্যটি স্বীকার করে নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি বলেন, 'ভবানীপুরে সিপিএমের ১৩ হাজার ভোট ছিল, যার মধ্যে অন্তত ১০ হাজার ভোট আমাকে দেওয়া হয়েছে। আমি এখানকার সিপিআই(এম) ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।'

উত্তর দমদমসহ পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য আসনেই এই ভোট স্থানান্তরের চিত্র দেখা গেছে। উত্তর দমদমে একসময় সিপিআই(এম)-এর একচ্ছত্র ভোটব্যাংক ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে বিজেপি জয়লাভ করে। অথচ বামেরা বয়স্ক নেতৃত্বের বদলে দীপ্সিতা ধরের মতো 'নতুন প্রজন্মের' প্রতিনিধিকে সেখানে প্রার্থী করেছিল।

ভোটারদের দল বদলানোর বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু নয়। দলগুলো এভাবেই জেতে। কিন্তু সিপিআই(এম)-এর মতো বাম দলগুলোর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটা সত্যিই বিস্ময়কর। কারণ, বাম ভোটাররা মতাদর্শগতভাবে অনেক বেশি অনুগত এবং তাদের অনেকেই খুব অল্প বয়সে বাম ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এ ছাড়া ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করায় পশ্চিমবঙ্গে বাম দলগুলোর এক বিশাল নেটওয়ার্ক ছিল।

বিশেষজ্ঞ, ভোটার এবং বাম কর্মীরা বলছেন, বাম থেকে ডানে (বিজেপি) এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু বছর ধরেই চলছিল। তারা বিশেষত ২০১৮ সালের কথা উল্লেখ করেন। ওই বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস সিপিআই(এম) ক্যাডারদের ওপর ব্যাপক হামলা চালালে বাম কর্মী-সমর্থকেরা দলে দলে বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। কারণ, সে সময় বিজেপি মাঠে ময়দানে শক্তি সঞ্চয় করছিল।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এর পরিষ্কার প্রতিফলন দেখা যায়। ২০১৪ সালে মাত্র দুটি আসন পাওয়া বিজেপি ২০১৯ সালে ১৮টি আসনে জয়লাভ করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়ে এবং বিজেপির আসনসংখ্যা লাফিয়ে ৭৭-এ পৌঁছায়।

বামদের টিকে থাকার লড়াই

বামদের এই কৌশলটি মূলত মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) যোদ্ধাদের মতোই। একজন যোদ্ধা যেমন প্রতিপক্ষের শ্বাসরোধকারী প্যাঁচ (চোকহোল্ড) থেকে বাঁচতে সে যাত্রায় হার মেনে নেন (ট্যাপ আউট করেন), যাতে পরের দিন আবার লড়াই করার জন্য সুস্থ থাকতে পারেন, বামেরাও ঠিক সে কাজটিই করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পতন প্রমাণ করে যে বামদের এই কৌশল কাজে লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের দখল করা পার্টি অফিসগুলো বাম দলগুলো আবার পুনরুদ্ধার করছে।

সঞ্জিত রায় বলেন, 'প্রতিটি নির্বাচনে তৃণমূল যে ভয় ও সহিংসতার পরিবেশ তৈরি করত, তাতে বাম ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এবার বিপুলসংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকায় অতীতের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।'

কবে থেকে বিজেপিমুখী হলো বাম ভোটাররা?

৩৩ বছর ১০ মাস ক্ষমতায় থাকার পর ২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বাংলা থেকে বামেরা পুরোপুরি মুছে গিয়েছিল। বাম দলগুলো এরপরও প্রবল উদ্দীপনার সঙ্গে নির্বাচনে লড়েছে। কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে সিপিআই(এম)-এর বার্ষিক সমাবেশে এখনো লাখো ক্যাডার ও সমর্থক জড়ো হন।

তবে বামদের ভাগ্য আর বদলায়নি। ২০১১ সালে সিপিআই(এম)-এর ভোট ছিল ৪১ দশমিক ০৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তাদের এই ভোটব্যাংক প্রথমে মমতার তৃণমূলের দিকে এবং পরে বিজেপির দিকে সরে যায়।

২০১৮ সালের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই এই পরিবর্তনের শুরু। ওই নির্বাচনটি বাংলার বামফ্রন্টের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ব্যাপক সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন এবং বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার ওই নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে অনেক বাম কর্মীকে আক্রমণ ও হত্যা করা হয়।

অনেক ক্যাডারের কাছে এই নির্বাচনটি এই বার্তা দিয়েছিল যে তৃণমূলই এখন বামদের প্রধান রাজনৈতিক শত্রু। তৃণমূল কর্মীদের রাজনৈতিক সহিংসতার মুখে বামদের সাংগঠনিক কাঠামো যখন দুর্বল হতে থাকে, তখন তাদের তৃণমূলবিরোধী ভোটারদের একটি অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। তাদের মনে হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের মোকাবিলা করার মতো একমাত্র শক্তি হলো বিজেপি।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়। সেবারই প্রথম বাম দলগুলো একটি আসনও জিততে পারেনি এবং তাদের ভোট ২০১৪ সালের ৩০ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসে।

কলকাতাভিত্তিক লেখক ও শিক্ষাবিদ স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, বামেরা তাদের অর্ধেকের বেশি ভোটার বিজেপির কাছে হারানোয় এমনটি ঘটেছিল। তিনি বলেন, 'বামেরা ওই ভোটারদের ২২ শতাংশকেও আর ফিরিয়ে আনতে পারেনি।'

এটা স্পষ্ট ছিল যে বামদের এই পতনে বিজেপিই লাভবান হচ্ছিল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তাদের আসনসংখ্যা ২০১৪ সালের দুটি থেকে বাড়িয়ে ১৮টিতে (৪২টির মধ্যে) নিয়ে যায় এবং তাদের ভোটের হার ১৭ শতাংশ থেকে একলাফে ৪০ শতাংশে পৌঁছায়।

বামফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃত্বও এই পরিবর্তন বুঝতে পেরেছিলেন। ২০১৯ সালে সিপিআই(এম)-এর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি স্বীকার করেছিলেন যে, বাম ভোটাররা বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন।

কলকাতভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফের খবরে ইয়েচুরিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, 'সিপিএমের কোনো দলীয় সদস্য বিজেপিকে ভোট দেবেন না। কিন্তু তৃণমূলের আট বছরের শাসনামলে তীব্র সন্ত্রাস ও নিপীড়নের শিকার হওয়া বাম সমর্থকেরা এই কাজ করেছেন।'

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়। ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালের এক রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনেক বাম ভোটার বলেছিলেন, তারা অন্তরে কমিউনিস্ট হওয়া সত্ত্বেও বিজেপিকে ভোট দেবেন।

ওই সময় এক বাম সমর্থক বলেছিলেন, 'আমি জানি এটা অদ্ভুত শোনাচ্ছে, কারণ বাম আর ডান কখনো এক হতে পারে না। তবে বিজেপি জিতলে আমরা আবার বামে ফিরে আসব। ক্ষমতা বড় কথা নয়। একবার তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হলে আমি ১০০ ভাগ সিপিএমে ফিরে যাব।'

ওই বছরের নির্বাচনী ফলাফলেও এই অনুভূতির প্রতিফলন ঘটে। সেবার তৃণমূল ভূমিধস বিজয় পেলেও, বিজেপি ৭৭টি আসন জিতে তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য পায়।

কেন বিজেপিকে সমর্থন করল বামেরা?

তাত্ত্বিকভাবে বাম এবং বিজেপি দুই মেরুর বাসিন্দা। তারপরও বামপন্থীরা কেন বিজেপিকে ভোট দিল?

এর প্রথম কারণ হলো—টিকে থাকা। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মমতার তৃণমূল প্রতিনিয়ত বাম নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, পার্টি অফিস দখল করেছে এবং অনেককে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করেছে। এর ফলেই তারা বিজেপির মতো বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন।

গত ৬ মে সাবেক তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ জহর সরকার পিটিআইকে বলেন, '২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কংগ্রেস ও বামসহ অন্যান্য বিরোধী দলকে দুর্বল করার দিকে মনোযোগ দেন। এসব দলের অনেক নেতা তার দলে যোগ দেন অথবা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য বিজেপিতে চলে যান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যারা তার বিরোধিতা করছিল, তাদের কাছে বিজেপি একধরনের "জীবন বিমা পলিসি" হয়ে ওঠে।'

দ্বিতীয় কারণটি হলো—যোগ্য বিকল্পের অভাব। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রিয়াজ ২০২১ সালে ইন্ডিয়া টুডে-কে বলেছিলেন, 'বাম কর্মীদের প্রতি মমতাকে প্রতিশোধপরায়ণ বলা যেতে পারে। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে তিনি বিরোধীদের শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৬ সালে তৃণমূল ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১১টি আসন জেতে। সে সময় বাম কর্মীরা বুঝতে পারছিলেন যে তাদের দল শক্তিশালী কোনো বিরোধী ভূমিকা পালন করতে পারছে না। এরপরই অনেক হিন্দু বাম কর্মী বিজেপিকে বিকল্প হিসেবে দেখতে শুরু করেন।'

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও এই একই মনোভাব কাজ করেছে বলে জানান সিপিআই(এম) কর্মীরা।

সঞ্জিত রায় বলেন, 'স্থানীয় পর্যায়ে আমাদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন থাকলেও, দলটি নিজেদের একটি যোগ্য বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার মতো শক্তিশালী ছিল না। এ কারণেই আমাদের অনেক সমর্থক বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।'

একজন বাম ভোটারের কাছে বিজেপি হয়তো চরম অপছন্দের একটি দল। কিন্তু তাদের অনেকের কাছেই আবার মমতার তৃণমূল ছিল বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বিপদ, যারা বাংলা থেকে বামদের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর ছিল।

অনেক বাম সমর্থকের মতে, তাদের কৌশল ছিল 'এবার রাম, পরে বাম'। অর্থাৎ, 'এবার আমরা রামকে (বিজেপি) ভোট দিচ্ছি, পরেরবার বামদের ভোট দেব।'

নিউ বারাকপুরের এক সিপিআই(এম) কর্মী বলেন, বিজেপির বিজয়ের মানে এই নয় যে বাম সমর্থকেরা হঠাৎ করে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি গ্রহণ করেছেন বা বাম আদর্শ ত্যাগ করেছেন। বরং এটি এই মুহূর্তে বাম সংগঠনের দুর্বলতাকেই প্রমাণ করে। ভোটাররা বিশ্বাস করেছিলেন যে বামেরা এখনো তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার মতো শক্তিশালী নয়।

কীভাবে ২০২৬-এর নির্বাচন ঘুরিয়ে দিল বামেরা?

অবশ্য শুধু বামেদের ভোটেই যে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে, এমনটা বলা অতিরিক্ত সরলীকরণ হবে। নারীদের ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে যাওয়া এবং ক্ষমতাসীন তৃণমূলের বিরুদ্ধে মনোভাবও বড় ভূমিকা পালন করেছে।

কিন্তু বিজেপির বিশাল বিজয় এ কথাই প্রমাণ করে যে শুধু সাবেক তৃণমূল ভোটাররা নয়, বামফ্রন্ট সমর্থকেরাও তাদের ভোট দিয়েছে। ফলাফলই এর প্রমাণ। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় এবং ৪৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার মানে হলো, বিজেপির এই বিশাল জয়ের পেছনে সব দলের সমর্থকদের ভূমিকা আছে। বিশেষ করে যেসব আসনে বিজেপি অল্প ব্যবধানে জিতেছে, সেখানে বামেদের এই ভোট বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

নিউ বারাকপুরের সিপিআই(এম) কর্মী কৃষ্ণেন্দু মিত্র বলেন, 'বাংলার মানুষ তৃণমূলকে হটাতে চেয়েছিল, তাই তারা অন্ধের মতো বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।'

যাদবপুর, উত্তরপাড়া, দমদম, উত্তর দমদম এবং আসানসোলের মতো আসনগুলো বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। একইভাবে মীনাক্ষী মুখার্জি ও দীপ্সিতা ধরের মতো অনেক পরিচিত বাম প্রার্থীও বিজেপির কাছে হেরেছেন।

এত কিছুর পরও এবার বামেরা কিছুটা হলেও লাভবান হয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় এবার তারা তাদের ভোটব্যাংকের একটি বড় অংশ ধরে রাখতে পেরেছে। স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, কংগ্রেস বাদে বামফ্রন্ট জোট ২০২১ সালে প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, যা ২০২৬ সালে বেড়ে প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। এর অর্থ হলো, বামেদের মূল সমর্থক গোষ্ঠী এখনো অটুট আছে।

উত্তরপাড়ার মতো কিছু আসনে বামেরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তাদের ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া মুসলিম ভোটের বিভাজনের কারণেও বাম দলগুলো বেশ লাভবান হয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদে সিপিআই(এম) ডোমকল আসন জিতেছে এবং তাদের জোটের আইএসএফ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় আসনটি জিতেছে।

বামেদের সামনে এখন কী পথ খোলা?

২০১৯ সাল থেকে বাম সমর্থকদের একটি অংশ মমতা ও তার তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করে আসছে, যা এখন অর্জিত হয়েছে। তাহলে এরপর কী?

পুনরুত্থানের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সিপিআই(এম) ও অন্যান্য বামফ্রন্ট ক্যাডাররা তাদের সেই পার্টি অফিসগুলো পুনর্দখল করছে, যেগুলো ২০১১ সালের পরাজয়ের পর তৃণমূল কর্মীরা দখল করেছিল বা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতেই বামফ্রন্টের অফিসগুলো তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এটি কেবলই শুরু।

বিজেপির বিজয়ের পর সিপিআই(এম) কর্মী ও সমর্থকদের মনে সংশয় ও সতর্ক আশাবাদ—দুটোই রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাম সমর্থক কমিউনিস্টদের পুনরুত্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, 'বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে কোনো শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠতে দেবে—এ বিষয়ে আমার মনে সন্দেহ আছে।'

এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কোচবিহারের দিনহাটায় ফরোয়ার্ড ব্লকের ক্যাডাররা বিজেপি নেতা পিয়ালী গুপ্তর উপস্থিতিতে তাদের পার্টি অফিস পুনর্দখল করছেন। আবেগপ্রবণ পিয়ালী অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৃণমূল নেতারা তাকে তার বাবার শেষকৃত্য করতে দেননি। তার বাবা একজন কমিউনিস্ট ছিলেন।

তৃণমূল শাসন এখন অতীত। তাই বামেদের সামনের পথটি স্পষ্ট হওয়া উচিত। তাদের হয়তো বিরোধী দলের শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে এবং বিজেপিতে চলে যাওয়া হতাশ সমর্থকদের ফিরিয়ে আনতে হবে। আর তা না হলে ২০১১ সালের পর তারা যে অপ্রাসঙ্গিকতার বৃত্তে চলে গিয়েছিল, সেখানেই চিরতরে আটকা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.