Sylhet Today 24 PRINT

পশ্চিমবঙ্গকে ‘জামায়াতীকরণ’ করতে চেয়েছিল তৃণমূল, ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ বানাতে চেয়েছিল : শুভেন্দু

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গকে 'বৃহত্তর বাংলাদেশ' বানাতে এবং রাজ্যটিকে 'জামায়াতীকরণ' করার চক্রান্ত চালানো হয়েছিল বলে সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শনিবার কলকাতার কেষ্টপুরে এক গণেশ পূজার মণ্ডপ উদ্বোধনকালে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল তাদের ১৫ বছরের শাসনামলে সনাতনী সংস্কৃতিকে কোণঠাসা করে বাংলাকে এই রূপান্তরের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'গত ৪৯ বছরের মধ্যে ৩৪ বছর যারা ধর্মকে 'আফিম' বলত, সেই কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় ছিল। আর পরবর্তী ১৫ বছর তারা (তৃণমূল) একে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করেছে। এখন এমন এক সরকার এসেছে যারা হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতি ও 'পরম্পরা' (ঐতিহ্য) ফিরিয়ে আনতে চায়।'

তিনি অভিযোগ করেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পূজা মণ্ডপের বাইরে বইয়ের স্টলগুলোতে কার্ল মার্কস ও ভ্লাদিমির লেনিনের বই প্রদর্শন করা হতো, কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বা লোকনাথ বাবার কোনো রচনা থাকত না। তিনি বলেন, 'সেখানে আপনি হনুমান চালিশা বা ভগবদগীতা খুঁজে পেতেন না। সেখানে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হতো যে তারা ধর্মে বিশ্বাস করে না এবং ধর্মকে আফিম মনে করে।'

সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে অধিকারী অভিযোগ করেন যে, তাদের মেয়াদে বাংলাকে 'জামায়াতীকরণ' করার চেষ্টা হয়েছিল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তিনি মহররমের সাথে মিলে যাওয়া একটি দিনে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন সীমিত করার পুরোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, 'তাদের ১৫ বছরের মেয়াদে—প্রথম মেয়াদে নয়, বরং শেষ অংশে—তারা বাংলাকে জামায়াতীতে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। এক বছর বিসর্জনের দিন পরিবর্তন করা হয়েছিল... তিনি (মমতা) বৈঠকের সময় বলেছিলেন যে মহররম রয়েছে, তাই বিজয়া দশমীতে কোনো বিসর্জন হবে না। কেউ এমনটা করতে পারে না। পঞ্জিকা মেনেই চলতে হবে। আমাদের পরম্পরা ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া হচ্ছিল।'

বর্তমানে কারাগারে থাকা রাজ্যের সাবেক এক মন্ত্রীর পূজার প্রসঙ্গ টেনেও অধিকারী সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওই মন্ত্রীর দুর্গাপূজা উদ্বোধনে পিতৃপক্ষের সময় উপস্থিত হয়েছিলেন—যা সনাতনী ঐতিহ্য অনুসারে এমন শুভ অনুষ্ঠানের জন্য অশুভ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার উদ্বোধন হওয়া উচিত মাতৃপক্ষে এবং মহাঅষ্টমীর সময় 'পরম পবিত্রতা' বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

দেশভাগের স্মৃতিচারণ করে অধিকারী বলেন, হিন্দু পরিচয়ের কারণে তাঁর মা তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বরিশাল থেকে পরনের কাপড় ছাড়া কার্যত সবকিছু ফেলে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গকে বাঙালি হিন্দুদের 'মাতৃভূমি' হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন এই রাজ্য গঠিত হয়েছিল এবং ভাষা ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব সনাতনীকে 'ঐক্যবদ্ধ থাকার' আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, 'আগে এত গণেশ পূজা হতো না। অনেকে মনে করত এটি কেবল মহারাষ্ট্রে হয়। না, এটি সারা বিশ্বের সমস্ত সনাতনীর জন্য। অনেকে ভাবত মা দুর্গা কেবল কলকাতার। না, তিনি সমস্ত সনাতনীর।'

তিনি আরও বলেন, 'যে বিভেদের দেয়াল তোলা হয়েছিল—যে আপনি হিন্দিভাষী, আপনি গুজরাটি, আপনি বাঙালি, আপনি মাড়োয়ারি—২০২৬ সালে এসে আমরা সেই দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছি। দিনশেষে আমরা সবাই হিন্দুস্তানি (ভারতীয়)।' তিনি যোগ করেন, বাঙালি হিন্দুর আবাসস্থল হিসেবে বাংলাকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

অধিকারী বলেন, তাঁর সরকার 'বহুজন সুখায় বহুজন হিতায়' (সকলের সুখের জন্য, সকলের কল্যাণের জন্য) নীতিতে বিশ্বাসী।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.