Sylhet Today 24 PRINT

শ্রম আইন সংস্কার বিলের বিরুদ্ধে পুরো ফ্রান্স জুড়ে চলছে তীব্র আন্দোলন

ফ্রান্স থেকে আসাদুজ্জামান  |  ২৭ মে, ২০১৬

চলতি বছরের মার্চের ৯ তারিখ থেকে পুরো ফ্রান্স জুড়ে শুরু হওয়া সরকারের নতুন শ্রম আইন সংস্কার বিলের প্রতিবাদে আন্দোলন আরও তীব্র গতি পেয়েছে

প্রথমে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ছাত্র-যুবক ও শ্রমিকদের মাধ্যমে ছোট আকারে। ধীরে ধীরে এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। মার্চের ৩১ তারিখে প্রায় তিন লক্ষ নব্বই হাজার লোক একসাথে রাস্তায় নেমে এই সংস্কার বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। আন্দোলন দমাতে যখন থেকে পুলিশ ছাত্র-জনতার উপর টিয়ার গ্যাস আর লাঠিচার্জ শুরু করেছে তখন থেকে আন্দোলনের গতি এবং আকার বেড়েই চলছে। এপ্রিল পেরিয়ে, মে মাসও পেরিয়ে যাচ্ছে তবে আন্দোলন বন্ধ হয়নি। প্রতিদিনই নতুন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে এই আন্দোলনে।


আমি যে শহরে আছি, শহরটির নাম মার্সেই। সে শহরে প্রায় প্রতিদিনই শ্রম আইন সংস্কার বিল প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কোন না কোন সংগঠন  রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। একদিন বাসসহ অন্যান্য সড়ক যোগাযোগ মাধ্যম তো পরের দিন রেল যোগাযোগ,পরের দিন শ্রমিক সংগঠন “সিজিটি" সহ অন্যান্য আরও অনেক সংগঠন, তার পরের দিন ছাত্র-যুবক শ্রমিক সবাই মিলে একসাথে জোট বেঁধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে । একটাই দাবি,শ্রম আইন সংস্কার বিল বাতিল করতে হবে। আন্দোলনের প্রধান স্লোগান হচ্ছে- "প্রত্যাহার কর, ধনীদের এই আইন প্রত্যাহার কর,এটা মনিবদের আইন"।

এদিকে গত নভেম্বরের প্যারিস এট্যাকের পর থেকে পুরো ফ্রান্স জুড়ে চলছে জরুরী অবস্থা। এই জরুরী অবস্থা চলাকালীন সময়েই চলছে আন্দোলন। বুধবার (২৫ মে) প্যারিসে আন্দোলন চলাকালে প্রায় ৭৭ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ ,১৫ জন পুলিশ আহত হয় ,এছাড়া গাড়ী সহ বেশ কিছু দোকানপাট ভাংচুর হয়েছে।

ফরাসি শ্রম আইন সংস্কার বিলের প্রধান দিকগুলো হচ্ছে: ১. বর্তমান আইন অনুযায়ী একজন শ্রমিক সপ্তাহে সর্বচ্চ ৩৫ ঘণ্টা কাজ করেন। আইন সংশোধন হলে, নিয়োগকারী সংস্থার উপর এই বিষয়ে অনেক বেশী ক্ষমতা দেয়া হবে।নিয়োগকারী শ্রমিক নিয়োগ দেয়ার সময় কথা বলে কাজের ঘণ্টা বাড়িয়ে সপ্তাহে সর্বচ্চ ৪৬ ঘণ্টা করতে পারবে।কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। ২.আইন সংশোধন হলে চাকুরীজীবীদের বেতন কমানোর ক্ষেত্রে নিয়োগকারী সংস্থা অনেক বেশী স্বাধীনতা পাবে। ৩.বর্তমান আইনে নিয়োগকারী চাইলেই একজন কর্মীকে কাজ থেকে চাটাই করতে পারেন না।সরকার দ্বারা তা কঠিনভাবে মনিটরিং করা হয়। আইন সংশোধন হলে,নিয়োগকারী কর্মীকে চাটায়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশী স্বাধীনতা পাবেন।অর্থনৈতিক মন্দা বা অন্য কোন করণে সহজেই কর্মীকে চাটাই করতে পারবেন। ৪ .বর্তমানে শ্রমিকদের বিশেষ ছুটি যেমন- মাতৃত্বকালীন অথবা বিয়ের জন্য ছুটি শ্রমিকের কিছুটা অনুকূলে। এবং সরকারীভাবে তা মনিটর করা হয়।

আইন সংশোধন হলে,নিয়োগকারী সংস্থা এই বিষয়ে অনেক বেশী স্বাধীনতা পাবে। আন্দোলনকারী অনেকেই অমনে করছেন, আইন চালু হলে বয়সের কারণে অনেক অভিজ্ঞ লোক চাকুরী থেকে ছাটাই হতে পারেন। কারণ,হয়ত এত লম্বা সময় বয়স্কদের পক্ষে কাজ করা সম্ভবপর হবে না। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রসোয়া অলাদ বলেছেন,নতুনদের মধ্যে বেকারত্ব কমাতেই এই চেষ্টা করা হচ্ছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভ্যালস বলেছেন, শ্রম আইন সংস্কার বিল প্রত্যাহার করা হবে না তবে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে। এদিকে সংস্কারের বিরুদ্ধে,সংস্কার বাতিলের পক্ষে শ্রমিক,ছাত্র-যুবক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।তাঁরা বলেছে,সংস্কার বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.