ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক | ২৪ মার্চ, ২০১৫
ডেনমার্কের যুদ্ধজাহাজে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। শনিবার ডেনমার্কের দৈনিক জাইল্যান্ডস-পোস্টেনে লেখা এক নিবন্ধে ডেনমার্কে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিখাইল ভানিন এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। খবর সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি, আল জাজিরা।
এদিকে ইরানের মতো দেশগুলো থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মিত্রদেশগুলোকে রক্ষা করার কথা বলে পূর্ব ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করেছে ন্যাটো। এ বলয়ের সঙ্গে নিজেদের কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের রাডার ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করা হবে বলে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে জানিয়েছিল ডেনমার্ক।
ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যোগ দিলে ডেনমার্কের যুদ্ধজাহাজগুলোকে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যস্থল করা হবে বলে এ হুমকি দেয়া হয়।
রাশিয়া অভিযোগ করেছে, তাদের পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা হ্রাস করতে ওই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করেছে ন্যাটো। রাশিয়ার এ অভিযোগের পর ঠান্ডা লড়াইয়ের মতো রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা শক্তিগুলোর একটি নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
ডেনমার্কের স্থানীয় একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশটিতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিখাইল ভানিন বলেন, ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার ফল ড্যানিশ কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি বুঝতে পারছে না বলে মনে করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এটি হলে রুশ পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ড্যানিশ যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্যস্থল করবে। ভানিন বলেন, ডেনমার্ক এতে যোগদান করলে আমরা একে অপরকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করব।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উদ্বোধন করে ন্যাটো। ২০২৫ সাল নাগাদ এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে। রাশিয়া একে বরাবরই নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হুমকি হিসেবে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার বেশ তিক্ত সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত বছর ইউক্রেন ইস্যুতে তিক্ত উত্তেজনার কারণে পূর্ব-পশ্চিম সম্পর্কে আরও অবনতি ঘটেছে। ওই বছরই ডেনমার্ক ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অন্তত একটি উন্নত রাডার ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্রিগেট দিতে রাজি হয়। এ ইস্যুতে ন্যাটো জানিয়েছে, রাশিয়ার হুমকি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকা রাখবে না।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের এ হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ন্যাটোর মুখপাত্র ওয়ানা লাঙজেস্কু জানান, এ ধরনের বক্তব্য আস্থা অর্জনে উৎসাহিত করবে না। এটি প্রত্যাশা, স্থিতিশীলতা ও শান্তির ক্ষেত্রেও কোনো ভূমিকা রাখবে না। তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক ন্যাটোর এক পরীক্ষিত সদস্য এবং যে কোনো হুমকি থেকে সদস্যদেশগুলো রক্ষা করবে ন্যাটো।
ওয়ানা লাঙজেস্কু বলেন, ন্যাটোর ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্য রেখে করা হয়নি; এটি ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলার জন্য করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেয়া হয়েছে। তাই আমরা সময়, বলার ধরন ও ডেনমার্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, তা নিয়ে বিস্ময় বোধ করছি।
এদিকে রাশিয়ার এ হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে কোপেনহেগেন। রাশিয়ার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ড্যানিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্টিন লিডেগার্ড। তিনি বলেন, এটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। রাশিয়া খুব ভালোভাবে জানে, ন্যাটোর মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক। আমরা রাশিয়ার সঙ্গে অনেক বিষয়েই একমত নই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমাদের মধ্যে যত দূর সম্ভব নরম সুর বজায় রাখতে হবে।
ইউরোপের ছয়টি দেশের ওপর প্যারেডের সিদ্ধান্ত মার্কিন বাহিনীর : এদিকে ইউরোপের ছয়টি দেশের শহরগুলোর ওপর দিয়ে প্যারেড করবে মার্কিন সামরিক বহর। এতে থাকবে ১২০টিরও বেশি সাঁজোয়া যান।
শনিবার থেকে অপারেশন ড্রাগন রাইড নামের যে মহড়া শুরু হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন সামরিক বহরটি রাশিয়ার সাবেক মিত্র দেশ পোল্যান্ড, লিথুনিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র হয়ে জার্মানিতে পৌঁছবে। ১২ দিনের এ মহড়া শেষ হবে এপ্রিলের ১ তারিখ।