লন্ডন সংবাদদাতা | ২৫ মার্চ, ২০১৫
সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনে ভয়াবহ হয়ে ওঠা জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ব্রিটিশ মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) যোগদানের প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে ব্রিটিশ সরকারসহ সব গণমাধ্যম। বৃটেনের শক্তিশালী দৈনিক দ্যা টেলিগ্রাফের লন্ডন অঞ্চলের সম্পাদক এন্ড্রু গিলিগান এর লেখা "দ্যা ব্যারনেস, ইসলামিক এক্সট্রিমিস্ট, এ কোশ্চেন অফ ফ্রিডম স্পিচ" শিরোনামে একটি কলাম ব্রিটিশ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে।
দীর্ঘ কলামে তিনি ইসলামিক এক্সট্রিমিজমের সাথে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গাজা ইস্যুতে বর্তমান ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা সাবেক মন্ত্রী পাকিস্থানি বংশোদ্ভূত ব্যারনেস সাইদা ওয়ার্সি এমপি'র দিকে সন্দেহের তীর ছোড়েন। এই সন্দেহের সুত্রটা মূলত মেন্ড (MEND) নামের একটি ইসলামিক চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে। যার পূর্ণ নাম Muslim Engagement and development l যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃটেনের মুসলমানদের উন্নয়নের জন্যে ফান্ড কালেকশন করে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে।
বিভিন্ন সময়ে তারা বৃটেনের ক্ষমতাসীন সরকার, বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ , পুলিস প্রধানের সাথে দেখা করলেও এবারের ফান্ড রাইসিং হচ্ছে একটি ভিন্ন ইস্যু নিয়ে। আগামী ৩রা এপ্রিল মেন্ড (MEND) ইউ-ইলেক্ট ম্যানচেস্টারে একটি ফান্ড রাইসিং কর্মসূচির ঘোষণা করে। যে ফান্ড রাইসিংয়ের উদ্দেশ্য ব্রিটিশ মুসলমানদের জাতীয় রাজনীতিতে উতসাহিত করা এবং মুসলমান প্রার্থীদেরকে নির্বাচিত করা। যাতে করে কিনা তারা আগামীতে দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত ব্রিটিশ মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন ব্যারনেস সাইদা ওয়ার্সি।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়, ৩রা এপ্রিলের ইভেন্টের অতিথিদের তালিকায় আছেন একজন বিতর্কিত ব্যক্তি যার নাম আবু ইসা নিয়ামতউল্লাহ। যিনি ব্যক্তিগত ভাবে শরিয়া আইনে বিশ্বাসী, গণতন্ত্রের ঘোরবিরোধী এবং যার বিরুদ্ধে ইসলামিক জঙ্গিদের সাথে সংশ্লিষ্টতাসহ ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রচারের প্রমাণ রয়েছে।
গণতন্ত্রবিরোধী ব্যক্তি যেখানে শুদ্ধ গণতন্ত্রের তীর্থক্ষেত্র ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলিমদের যোগদানের জন্যে উৎসাহিত করছেন তা ঘোরতর সন্দেহের উদ্রেক করায় এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্যে লন্ডন Muslim Engagement and development এর অফিসে গিয়ে এন্ড্রু গিলিগান দেখা পেলেন দুজন ব্যক্তির।
সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি দেওয়া দুজন ব্যক্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে এন্ড্রু গিলিগান বলেন ভিন্ন ধর্মমতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ঘৃণা প্রচারকারীদের জঘন্য গুরু মিস্টার রসিদ এবং একজন জঙ্গিদের মদদদাতা, শরিয়া জাজ হাইথাম আল-হাদ্দাদ। এদের দুজনই পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা। ধারণা করা হয় তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে অন্যতম জঙ্গিমদদদাতা সংগঠন কেইজ (cage) এর সাথে।
দীর্ঘ প্রতিবেদনে মিস্টার গিলিগান বলেন গণতন্ত্রকে নোংরা এবং ক্রিশ্চিয়ান ও জুইসদের তৈরী নরক বলে অভিহিত করা জঘন্য ঘৃণা প্রচারক আবু ইসা নিয়ামত উল্লাহ হঠাৎ করে কেনো ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলমানদের উৎসাহিত করতে চাচ্ছেন? কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বৃটেনের মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদকে বৃটেনের মাটিতে প্রতিষ্ঠা করা।
এই বিষয়ে ব্যারনেস ওয়ার্সির সাথে যোগাযোগ করে মিস্টার গিলিগান বলেন তিনি (ওয়ার্সি) বলেন তিনি একাই যাচ্ছেন মেন্ড (MEND) এর ইউ-ইলেক্ট কর্মসূচিতে যদিও মেন্ড (MEND) তাদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যারনেস সাইদা ওয়ার্সি ও আবু ইসা নিয়ামতউল্লাহর নাম যৌথভাবে প্রচার করে যাচ্ছে।
আশঙ্কা প্রকাশ করে এন্ড্রু গিলিগান বলেন মত প্রকাশের সুবিধা কে পুঁজি করে ইসলামিক জঙ্গিরা যেভাবে ব্রিটেনে তাদের প্রচারণা ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে তার বিরুদ্ধে শিগগির ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যত খুব সুখকর হবেনা।
উল্লেখ্য গতবছর বাংলাদেশ সফর শেষে ব্যারনেস সাইদা ওয়ার্সি বাংলাদেশে বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের মানবতা ও ন্যায় বিচারের আশঙ্কা তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে সমালোচিত হয়েছিলেন।