Sylhet Today 24 PRINT

কাশ্মীর আবারো রক্তাক্ত হয়ে উঠছে

সিলেটটুডে ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক |  ১৯ আগস্ট, ২০১৬

ভারতের অধীনস্থ কাশ্মীরে ৪০ দিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। আহত মানুষে ভরে উঠেছে শহরের মূল হাসপাতাল। এসব আহতদের অনেকেরই অভিযোগ সৈন্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্যাতন করেছেন তাদের। খবর রয়টার্স।

বিক্ষোভের সূচনা কাশ্মীরের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের ফিল্ড কমান্ডারের মৃত্যুতে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, বিক্ষুব্ধদের নেতাদের খুঁজে বের করতে শুক্রবারও অব্যাহত ছিল সৈন্যদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চালানো তল্লাশি কার্যক্রম।

সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। এদের অনেকেই আহত হয়েছেন কারফিউ চলাকালীন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর শটগানের গুলিতে।

শ্রীনগরের শ্রী মহারাজা হরি সিং (এসএমএইচএস) হাসপাতালে বৃহস্পতিবার তোলা এক স্থিরচিত্রে আহতদের পিঠ ও নিতম্বে গভীর ক্ষত দেখা যায়। আহতরা জানান, সৈন্যদের আঘাতে এ ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। আরেকটি স্থিরচিত্রে পুরো মাথা ব্যান্ডেজে জড়ানো এক শিশুকে কাঁদতে দেখা যায়। শটগানের আঘাতে তার এ অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিশুটি।
 
হাসপাতালটিতে চিকিত্সারত ক্লান্ত ডাক্তাররা জানান, গত তিন বছরে তারা যতগুলো চোখের অপারেশন করেছেন, এ এক মাসে অস্ত্রোপচার হয়েছে তার চেয়ে বেশি। এসএমএইচএসের সিনিয়র কনসালট্যান্ট নিসারুল হাসান জানান, এখানে কর্মচারী ও রোগীদের শয্যার সংখ্যা কম। রোগীদের চিকিত্সা দিতে দিতে আমরা মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত।

এদিকে সৈন্যদের প্রহারে কলেজ প্রভাষকের মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করে ভারতীয় সেনাবাহিনী ক্ষমা চেয়েছে। এক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, এ ঘটনায় যে কোনো ধরণের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে সেনাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে নিষেধ করা হয়েছে।
শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসকে দুয়া জানান, জঙ্গিরা আড়ালে আশ্রয় নিচ্ছে। একই সঙ্গে সৈন্যদের গুলি চালাতেও উস্কানি দিচ্ছে। কিন্তু বেসামরিক হতাহতের ঘটনা চিন্তা করে সেনাসদস্যদের থামিয়ে রাখতে হচ্ছে।

গ্রামাঞ্চল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে বয়ে আনা আহতদের হাসপাতালে ভর্তিতে সহায়তা করছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। প্যারামেডিক ও এ্যাম্বুলেন্স চালকরা জানান, আহতদের পরিবহণের সময়েও সরকারি বাহিনী পথে তাদের ওপর হামলা চালায়। তার ওপর কারফিউতেও ব্যাঘাত ঘটছে প্রাত্যহিক জীবনের।সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তির ছেলে ফয়জাল ওয়ানী বলেন, আমাদের মাতৃভূমিতে যুদ্ধ করে ভারত-পাকিস্তান। আর রক্তক্ষরণ হয় শুধু আমাদের।

আরেক চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে রাইফেলের গুলিতে জখম ব্যক্তিদেরও আনা হচ্ছে। অপারেশন থিয়েটারগুলোতেও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা চলছে।
শহরটির এক আঞ্চলিক আদালত জানায়, ভারতের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সকে কাশ্মীরে আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে। বাহিনীটির শটগানের গুলিতে শতাধিক মানুষ হয় আংশিক না হয় সম্পূর্ণভাবে অন্ধ হয়ে গেছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.