ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক | ২৩ এপ্রিল, ২০১৫
লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে দাবি করে ইয়েমেনে বিমান হামলার ইতি টেনেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে দরকার পড়লে হুথিদের বিরুদ্ধে ফের হামলা হবে, এমনটাও জানিয়েছে তারা। খবর সূত্র : বিবিসি, এএফপি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)জোটের তরফ থেকে জানানো হয়, এবার সংকট নিরসনে সেখানে রাজনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটবে তারা। জোটের এসব সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
রাজধানী সানাসহ বর্তমানে ইয়েমেনের অধিকাংশ অঞ্চলের দখল রয়েছে শিয়াপন্থী হুথি মিলিশিয়াদের হাতে। তাদের অগ্রযাত্রার মুখে পালিয়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন দেশটির পশ্চিমাপন্থী প্রেসিডেন্ট আবদ্রাবু মনসুর হাদি।
গত ২৬ মার্চ হাদির সরকারকে রক্ষায় ইরানপন্থী হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানিয়েছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ইয়েমেনে বিভিন্ন পক্ষের সংঘর্ষ ও জোটের বিমান হামলায় ৯৪৪ জন নিহত হয়েছে।
কিন্তু এ প্রাণহানি কিংবা বিমান হামলার পরও এখনো রাজধানী সানার দখলে আছে হুথিরা। এ অবস্থায় লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে দাবি করে মঙ্গলবার 'ডিসাইসিভ স্টর্ম' নামের ওই বিমান অভিযানের ইতি টানে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ আল আসিরি জানান, 'ডিসাইসিভ স্টর্মের' লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এবার শুরু হবে 'রিস্টোরিং হোপ' অভিযান। এতে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে জোর দেওয়া হবে।
মুখপাত্র আরো জানান, হাদি সরকারের অনুরোধে বিমান হামলার ইতি টানা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে হুথিদের বিরুদ্ধে ফের হামলা চালানো হবে। আর হামলা বন্ধ থাকলেও ইয়েমেনে নৌ অবরোধ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন আসিরি।
এ ছাড়া এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, গত চার সপ্তাহের অভিযানে বিদ্রোহীদের বিমান হামলা কিংবা মিসাইল নিক্ষেপের সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে।
হামলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর সৌদি রাজধানী রিয়াদ থেকে টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন হাদি। এতে ইয়েমেনের শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করার জন্য জোটকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এ ছাড়া দেশে ফেরার আশাও প্রকাশ করেন 'বিতাড়িত' এই প্রেসিডেন্ট।
জোটের সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ওয়াশিংটন।