সিলেটটুডে আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮
মাত্র ২৩ বছর বয়সে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর স্বামীর। তখনই তিনি মনে মনে পণ করেছিলেন এমন একটা কিছু করবেন যাতে আর কারোর এমন করুন পরিণতি না হয়। স্বামীর মৃত্যুর পরই জীবন পণ করেছিলেন ভারতের কোলকাতার জোকার হাঁসপুকুরের সুভাষিণী মিস্ত্রি।
২০ বছর ধরে সবজি বিক্রি করে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে একসময় তিনি বানিয়ে ফেলেন এক হাসপাতাল। অশীতিপর সেই বাঙালি মহিলাই জীবনের লড়াইকেই এ বার শ্রদ্ধা জানাল ভারত সরকার। তিনি এবার পেতে চলেছেন পদ্মশ্রী।
সুভাষিণীদেবীর জীবন সংগ্রাম শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। বয়স তখন ১৮। স্বামীর মৃত্যুতে অন্ধকার নেমে এসেছিল হাঁসপুকুরের সুভাষিণী মিস্ত্রির জীবনে। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর স্বামীর। টাকার অভাবে সেমসয় স্বামীর মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না সুভাষিণীদেবীর।
অভাব অনটনের সংসারে সন্তানদের মুখে দুবেলা খাবার জুটছে না। তাই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতে না পেরে রেখে এলেন অনাথ আশ্রমে। সেদিন থেকেই শপথ নিয়েছিলেন, মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। বিনা চিকিৎসায় কাউকে মরতে দেবেন না। এই অবস্থায় অদম্য জেদ সঙ্গী করে শুরু হয় সুভাষিণীর লড়াই। লোকের বাড়ি কাজ, ধাপার মাঠ থেকে সবজি তুলে তা বিক্রি করতে শুরু করলেন। সে থেকেই একটু একটু সঞ্চয় করেছেন।
২০ বছরের দীর্ঘ লড়াইয়ে, জমিয়ে রাখা টাকা দিয়ে ঠাকুরপুকুরের বাখরাহাট রোডের হাঁসপুকুরে জমি কেনেন সুভাষিণী। কিন্তু সেখানে আর পাঁচজনের মত নিজের বাড়ি করতে চাননি। ওই জমিতেই ১৯৯৩ সালে তৈরি করেন এক অস্থায়ী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নিজেদের জমিতে ছাউনি দিয়ে তৈরি করেন প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র।
পরে অনুদানের টাকায় শেষমেশ তিন বছর পর গড়ে ওঠে ৫০ শয্যার হিউম্যানটি হাসপাতাল। প্রায় বিনামূল্যে যেখানে চিকিৎসা পান কয়েকশো রোগী। হাঁসপুকুর ছাড়িয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে সুভাষিণীর নাম। মানবিকতার অনবদ্য নজির গড়ে সকলের অন্তরে স্থান করে নেন সুভাষিণী।