Sylhet Today 24 PRINT

নিজ বাড়িতে ফিরেছেন মালালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |  ৩১ মার্চ, ২০১৮

তালেবানদের হামলার শিকার হয়ে ২০১২ সালে দেশ ছাড়ার প্রায় ছয় বছর পর বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) বাবা-মাসহ জন্মভূমি পাকিস্তানে ফেরেন মালালা ইউসুফজাই। পাকিস্তান পৌঁছে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত ভ্যালির মিনগোরা শহরে নিজ বাড়িতে গেছেন পাকিস্তানের নোবেল বিজয়ী এ তরুণী।

এর আগে মালালা ইসলামাবাদের বেনজির ভুট্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পৌঁছলে সেখান থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়

বৃহস্পতিবার পাকিস্তান পৌঁছে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে আবেগজড়িত কণ্ঠে নিজ দেশে ফেরার স্বপ্নের কথা বলেন এই তরুণী।

সরাসরি টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বক্তব্যে মালালা বলেন, “গত ৫ বছর ধরে আমি দেশে আসার স্বপ্ন দেখেছি।”

বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, “আজ আমি খুবই আনন্দিত। আমি সাড়ে পাঁচ বছর পর আবার আমার দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরেছি।”

তবে পাকিস্তানে ফিরতে পারলেও মালালা তার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন কিনা তা শুক্রবার রাত পর্যন্ত নিশ্চিত ছিল না। কারণ, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ এখনও জঙ্গিদের শক্তঘাঁটি।

মালালার ফেরা উপলক্ষে শনিবার সোয়াত ভ্যালিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মিনগোরা শহরে মালালার বাড়িতে যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

এই সফরে মালালা চারদিন পাকিস্তানে থাকবেন বলে জানান মালালা ফান্ড গ্রুপের কর্মকর্তারা।

মিনগোরার যে স্কুলে একসময় মালালা পড়তেন সেই স্কুলের ছাত্রী আরফা আখতার বলে, “মালালা পাকিস্তানে আসায় আমরা খুব খুশি। আমিও মালালা। মালালার এই লড়াইয়ে আমি তার সঙ্গে আছি।”

৬৬ বছরের বৃদ্ধ বরকত আলি, যার কোলেপিঠে মালালার শৈশব কেটেছে।

তিনি বলেন, মেয়েদের শিক্ষার অধিকারের জন্য মালালা যেভাবে লড়াই করছে তাতে তিনি গর্বিত বোধ করছেন।

“যারা বলবে আমাদের মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অধিকার নেই তারা আসলে সব বৃদ্ধ মূর্খ। নতুন প্রজন্ম অনেক বেশি বিচক্ষণ। তারা তাদের কন্যাদের শিক্ষার আলো দিতে চায়।”

তবে পাকিস্তানের সবাই মালালাকে স্বাগত জানায়নি। কেউ কেউ মালালার বিরুদ্ধে নিজ দেশের অসম্মান করে বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার অভিযোগ করেছে।

পূর্বের শহর লাহোরে কয়েকটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মালালার আগমনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা ‘আমি মালালা নই’ বলে শ্লোগান দেয়।

তাদের একজন কাশিফ মির্জা বলেন, “মালালা সত্যিকারে পাকিস্তানকে উপস্থাপন করে না।

“সে বিদেশে গিয়ে পাকিস্তান, ইসলাম ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে অসম্মান করেছে।”

তবে পক্ষে-বিপক্ষে যত কথাই হোক মালালার শহরের বাসিন্দারা চান মালালা আবারও তাদের মাঝে ফিরে আসুক।

তাদের একজন জাওয়াদ ইকবাল বলেন, “সোয়াত ও পুরো পাকিস্তানের জনগণ মালালার সঙ্গে আছে। আল্লাহ চায় তো একদিন আমরা শিক্ষা, কলম, শিক্ষক ও বইয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও চরমপন্থাকে প্রতিরোধ করতে পারবো।”

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.