Sylhet Today 24 PRINT

ঋত্বিক ঘটকের স্ত্রী আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |  ০৮ মে, ২০১৮

প্রবাদপ্রতিম চিত্রনির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের সহধর্মিণী সুরমা ঘটক আর নেই।

সোমবার (৭ মে) রাত সোয়া ১২টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে সুরমা ঘটকের বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

সুরমা ঘটক পেশায় ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। তবে বাস্তবিক অর্থে বলতে হয় ঋত্বিকের চালিকাশক্তি।

ঋত্বিকের পাগলামি, ঋত্বিকের ধর্মকে আপন করে নিয়েছিলেন শুধু নয়, সাংসারিক পরিসর থেকে মুক্তি দিয়ে ঋত্বিককে ঋত্বিক হয়ে ওঠার অবকাশও দিয়েছিলেন তিনিই। বলা যায়, ঋত্বিকের সহযোদ্ধাই ছিলেন,তবে অন্যভাবে। হয়তো নীরবে। তেমন উচ্চকিত নয়। যুগ যন্ত্রণার যে ক্ষত ঋত্বিক লালন করে চলেছেন, ব্যক্তিগত জীবনে সেই একই দহন সয়েছেন তিনিও। সাংস্কৃতিক উথালপাথালে ঋত্বিক যদি শিখা হন তবে অবশ্যই সলতে পাকানোর কাজ আজীবন করে গিয়েছেন সুরমাই।

ঋত্বিকের অনুগামীরাও জানেন, সুরমা সত্যিই যেন এক নদীর নাম। যে নদীর তিরে গড়ে উঠেছে ঋত্বিকের সভ্যতা ও সংস্কৃতি। পাশাপাশি কিছু সমালোচনাও আছে। তবে যন্ত্রণার ইতিবৃত্ত তো মিথ্যে নয়।

বাংলাদেশের ঢাকার ঋষিকেশ দাস লেনে ১৯২৫ সালে জন্ম নেন ঋত্বিক ঘটক। দেশভাগের সময় ভারতে পরিবারের সাথেই চলে যান। সেই সময়ে শরণার্থীদের অস্তিত্বের সংকট তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং পরবর্তী জীবনে তার চলচ্চিত্রে এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। সুরমা ঘটকের সাথে বিয়ে হলেও সংসারের প্রতি কোনো দায়বোধ ছিলো না ঋত্বিকের।

সুরমা ঘটক এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘যখনই ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে তখনই আমি দেখলাম এতো আনকম্প্রোমাইজিং শিল্পী, কখনো কাজ থাকবে, কখনো কাজ থাকবে না। কখনো ছবি চলবে, কখনো ছবি চলবে না। সুতরাং আমি নিজের পায়ে দাঁড়াবো।’

এই তিনিই একাই সংগঠন চালানোর পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন তিন ছেলে-মেয়ের এক সংসার। এক সময় তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে অকুল পাথারে সুরমা ঘটক ঋত্বিককে ছেড়ে চলে গেলেন শিলংয়ে নিজের বাপের বাড়িতে। ১৯৭৬ সালে মারা গেলেন ঋত্বিক। ২০০৯ সালে কন্যা শুচিস্মিতার মৃত্যু হয়। এক বছর আগেই মৃত্যু হয়েছে এই দম্পতির আরেক কন্যা সংহিতা ঘটকের। দীর্ঘদিন মানসিক রোগে আক্রান্ত পুত্র ঋতবানও। রোগভোগের পর ঋত্বিকের দেশে পাড়ি দিলেন সহযোদ্ধা সুরমাও।

ঋত্বিক পত্নীর শেষকৃত্য আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষ হয়। এর আগে সকাল ১০টায় তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় চেতলার সরকারি আবাসনে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.