Sylhet Today 24 PRINT

নরেন্দ্র মোদির ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ স্লোগানে আস্থা নাই অমর্ত্য সেনের

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক |  ০৮ জুলাই, ২০১৫

মঙ্গলবার ইন্ডিয়া টুডে টিভি চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একহাত নিয়েছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। নরেন্দ্র মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ (সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন)-এর স্লোগানেও যে তাঁর এতটুকু আস্থা নেই সেটাও জানিয়েছেন তিনি। 

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদ থেকে তাঁর অপসারণ প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন সরাসরি বলেছেন- তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে সরিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে তাঁর অস্বস্তি তিনি কখনও গোপন করেননি। এমনকি, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগেও তিনি বলেছিলেন, মোদি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হোন তা তিনি চান না। নিজের সেই অবস্থান থেকে তিনি যে এতটুকুও সরে যাননি, মঙ্গলবারের কথায় আরও স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন এ অর্থনীতিবিদ।

শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যহীনতার পথে কতটা এগোতে পেরেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার? শিক্ষায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে? কেন, হাতের সামনেই তো রয়েছে প্রেসিডেন্সি কলেজের উদাহরণ। শাসক দলের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শিক্ষাঙ্গনকে কতটা কলুষিত করতে পারে তার জন্য প্রেসিডেন্সির এই উদাহরণ এ রাজ্যের কোনও বিরোধী নেতার নয়। কথাটা বলছেন নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। শিক্ষাক্ষেত্রে মোদি সরকারের হস্তক্ষেপ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই সরব হয়েছেন অমর্ত্য।

মোদির স্বপ্নের ডিজিটাল ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়ার প্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অভুক্ত, অপুষ্ট ও অশিক্ষিত দেশবাসীকে নিয়ে বিশ্বের সামনে নিজেকে শিল্পায়নের বৃহত শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে ভারত। কিন্তু, ভারতবর্ষের মূল সমস্যাগুলিকে এড়িয়ে গিয়ে সম্ভব নয়।’

আগামি আগস্টে প্রকাশিতব্য নিউইয়র্ক রিভিউ অফ বুকসের জন্য ৪০০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখেছেন অমর্ত্য। বিষয়: নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর অপসারণ। কিন্তু সেই প্রবন্ধ প্রকাশের আগেই শিক্ষায় মোদি সরকারের হস্তক্ষেপের নানা উদাহরণ তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি।

অমর্ত্য সেনের অভিযোগ, মোদি সরকারের প্রথম ১৩ মাসে শিক্ষাক্ষেত্রে যে পরিমাণ হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, তা ছাপিয়ে গিয়েছে অতীতকে। উদাহরণ হিসেবে নালন্দার পাশাপাশি টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ, একের পর এক আইআইটি, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস এবং আইআইএম -এর প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন অমর্ত্য।

তাঁর দাবি, যে ভাবে বিজেপি তাদের হিন্দুত্বের কর্মসূচি এই ধরনের শিক্ষাকেন্দ্রগুলির উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তার ফল সুদূরপ্রসারী হতে পারে। নালন্দায় তাঁর বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও এনেছে বিজেপি। সে কথা হেসে উড়িয়ে দিয়ে অমর্ত্য বলেন, তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের লাগাতার অসহযোগিতার পাশাপাশি এই ধরনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কথা মনে করিয়ে দিয়ে অমর্ত্য বলেন, সেই কলঙ্কের ছাপ মুছে ফেলা মোদির পক্ষে সম্ভব নয়। ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষতার উজ্জ্বল ইতিহাস মনে করিয়ে দিতে তিনি টেনে এনেছেন বৌদ্ধ সম্রাট অশোক এবং মুসলিম বাদশাহ আকবরের প্রসঙ্গ। সবাইকে একসঙ্গে গ্রহণ করে, ধর্মাচরণের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার ঐতিহ্যই যে ভারতের সভ্যতাকে বেঁধে রেখেছে, বর্তমান শাসকদের সে কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুজরাট মডেলের কথা ফলাও করে প্রচার করে থাকেন মোদি ও বিজেপি। কিন্তু অমর্ত্য মনে করিয়ে দিয়েছেন অপুষ্টি বা অন্যান্য মানবিক সূচকে বিহারের মতো রাজ্যের থেকেও পিছিয়ে রয়েছে গুজরাট। শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুজরাটের থেকেও কেরালা মডেল অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক বলেও মনে করেন তিনি।

স্বচ্ছ ভারত বা শৌচাগার নির্মাণের মতো মোদির বহুল প্রচারিত প্রকল্পের সঙ্গেও বাস্তবের মিল নেই বলে মনে করেন অমর্ত্য। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘শৌচালয় বানানো নিয়ে এত কথা হচ্ছে, কিন্তু কয়টা শৌচালয় বানানো হয়েছে?’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.