আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৯ আগস্ট, ২০১৯
বেক্সিট কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্রিটেনের পার্লামেন্ট স্থগিত রাখতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের বিতর্কিত পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়েছেন রানি এলিজাবেথ।
বুধবার রানি এই সম্মতি দেন।
এর মধ্যদিয়ে যুক্তরাজ্য নতুন করে সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, প্রথা ভেঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্টের কার্যক্রম স্থগিত রাখার পরিকল্পনা করেছেন। রানির অনুমোদন পাওয়ায় তা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পনা জানতে পেরে চরম ক্ষিপ্ত হয়েছে ব্রিটেনের প্রায় সবগুলো বিরোধীদল। তারা মনে করছে, কোন চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে আনার যে পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী জনসন করছেন, বিরোধীদের হস্তক্ষেপে তা যেন সংসদ আটকে না যায়, তার জন্যই সংসদের অধিবেশন স্থগিত করার বিরল এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন।
ব্রিটিশ রীতি অনুযায়ী ১৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। জনসন চান ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদের ক্ষমতা যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে। সেই লক্ষ্যে তিনি সংসদের অধিবেশনের দিন কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আগামী ১৪ অক্টোবর রানির ভাষণের দিন স্থির করার উদ্যোগ নিচ্ছেন জনসন। এর ফলে আগামী সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় এক মাসের বিরতি অনিবার্য হয়ে পড়বে। ১৪ অক্টোবরের পরেও সংসদ সদস্যদের হাতে বেশি সময় থাকবে না।
প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের গণতন্ত্রকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছেন।
সংসদের স্পিকার জন বারকো মন্তব্য করেছেন, এই পদক্ষেপ সংবিধান লঙ্ঘনের সামিল হবে।
সবচেয়ে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে বিরোধীদল এসএনপি নেত্রী ও স্কটল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিকোলা স্টারজনের কাছ থেকে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা স্বৈরশাসকের মত আচরণ করছেন। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্টারজেন আরও বলেন, কিছুই বাড়িয়ে বলছি না। কিন্তু যদি সংসদের এমপিরা প্রধানমন্ত্রীকে ঠেকাতে না পারেন, তাহলে ব্রিটেনের সংসদীয় গণতন্ত্রের মৃত্যু হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দাবি করেছেন, ব্রেক্সিটের সঙ্গে পার্লামেন্ট স্থগিত রাখার কোনও সম্পর্ক নেই। সরকারের সংসদীয় কার্যক্রমের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
জনসন উল্লেখ করেন, এই দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারের যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়ন শুরুর জন্য তিনি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান না।
তিনি বলেন, সরকার একটি নতুন সরকার। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অনেক পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলোর জন্য প্রয়োজন নতুন আইন। ফলে রানির ভাষণের আয়োজন করা হয়েছে ১৪ অক্টোবর। এ জন্যই কয়েক সপ্তাহ সংসদ স্থগিত থাকবে এবং ব্রেক্সিটের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
বিরোধীরা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই যুক্তি মানছেন না। তারা বলছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট করাই সরকারি দলের আসল লক্ষ্য।
লন্ডনে ব্রিটিশ রাজনীতির একজন বিশ্লেষক ড. মুশতাক খান বলেন, এই ধরনের সংকট ব্রিটেনের বহু বছরের রাজনীতির ইতিহাসে খুবই বিরল। বিরোধীদের পক্ষে তেমন কিছু করা কঠিন কারণ প্রধানমন্ত্রী যা করছেন আইন মেনেই তা করছেন।