Sylhet Today 24 PRINT

‘আগামী দুই বছর হতে যাচ্ছে সর্বাপেক্ষা উষ্ণ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী আগামী দুই বছর হতে পারে সর্বাপেক্ষা উষ্ণ। গ্রিনহাউজ গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় জলবায়ুতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি।

মেট অফিসের এ গবেষণায় দেখা যায়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাব চলমান থাকায় সমগ্র পৃথিবীতেই উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় আরও বলা হয়, যখন পৃথিবীজুড়ে উষ্ণতা বাড়ছে, তখন কিছু সময়ের জন্য ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা খানিকটা কম থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, ২০১৫ সালে পৃথিবীর পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা থেকে শূন্য দশমিক ৬৮ সেলসিয়াস বেশি।

মেট অফিসের হ্যাডলি সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর স্টিফেন বেলচার বলেন, ‘কোনো বছরে প্রাকৃতিকভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রার তারতম্য সম্পর্কে আমরা অবগত। কিন্তু চলতি বছরে এখন পর্যন্ত উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য মূলত দায়ী হলো মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউজ গ্যাস। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি আগামী বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে। এটি পরিষ্কার যে, আমাদের জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে’।

ইউনিভার্সিটি অব রিডিং-এর প্রফেসর রোয়ান সুটন নিশ্চিত করেছেন, বড় মাপের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত না হলে ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ হবে রেকর্ড পরিমাণ উষ্ণতার বছর। তিনি বলেন, ‘এটা আকস্মিক কিছু নয়। পৃথিবীর মহাসাগরগুলোতে শক্তির সুদৃঢ় পুঞ্জীভবনের প্রভাব এবং জলবায়ুতে গ্রিনহাউজ গ্যাসের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।’

গবেষকরা জলবায়ুতে বড় রকমের পরিবর্তনের আশংকা করছেন। মেট অফিসের প্রফেসর এডাম স্কাইফি বলেন, ‘পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। যেখানে অনেকগুলো বৃহৎ পরিবর্তন ঘটতে চলেছে’।

বিজ্ঞানীরা জানান, সম্প্রতি মহাসাগরের গতিপ্রবাহের পরিবর্তন বা মানবসৃষ্ট উষ্ণতা বৃদ্ধি সম্পর্কে অধিকতর তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে। তবে পৃথিবীর পৃষ্ঠতলের উষ্ণতা বৃদ্ধির অবসান কবে ঘটতে পারে এ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। এ ব্যাপারে প্রফেসর সুটন সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘যদি গ্রিনহাউজ গ্যাসের ফলে উষ্ণতা এই হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক এবং স্থানিক জলবায়ু পরিবর্তনে এল নিনোর স্বল্পমেয়াদী প্রভাবকেও ছাড়িয়ে যাবে’।

উল্লেখ্য, এল নিনো হলো সমুদ্রের উপরিভাগের পানির তাপমাত্রার একটি নিরবচ্ছিন্ন পরিবর্তন, যখন তা গড় মানের সাথে তুলনা করা হয়। এল নিনো বা উষ্ণ মহাসাগরীয় অবস্থা বিরাজ করে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তে। তখন পূর্ব-কেন্দ্রীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় শান্ত সমুদ্রের পানির গড় তাপমাত্রা কমপক্ষে শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (শূন্য দশমিক ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর এল নিনো অবস্থা বিরাজমান থাকে। এসময় প্রশান্ত মহাসাগরের স্রোত বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়। এল নিনোর প্রভাবে খরা অঞ্চলে অতিবৃষ্টি এবং বৃষ্টি ভাবাপন্ন অঞ্চলে খরা লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে পৃথিবী ক্রমশ উষ্ণ হয়ে ওঠে।

বর্তমানে চলমান এল নিনোর প্রভাব ১৯৯৮ সালের এল নিনোর মতোই শক্তিশালী বলে গবেষকরা মনে করছেন। সেই সময় বন্যা ও খরায় প্রায় দুই হাজার একশ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার তিনশ কোটি ডলারের সম্পদ নষ্ট হয়। চলতি এল নিনো দক্ষিণ আফ্রিকা, পূর্ব এশিয়া এবং ফিলিপাইনে খরা সৃষ্টি করতে পারে। আর দক্ষিণ আমেরিকায় তা বন্যার কারণ হতে পারে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.