আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কের মধ্যে এবার আশার আলো জ্বালিয়েছে চীন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ২০ রোগীকে সুস্থ করে ছাড়পত্র দিয়েছে উহানের একটি হাসপাতাল। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ওই রোগীদের হাসপাতালের ছাড়পত্র দেয়া হয়।
করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল উহানে অবস্থিত জিনযিনতান হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়। বের হওয়ার সময় হাসপাতালের সামনে ২০ রোগী দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন এবং ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও যেন আতঙ্কিত বিশ্ববাসীর প্রাণসঞ্চার ঘটিয়েছে।
প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই ২০ রোগী। করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি রোগী যেসব হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি জিনযিনতান হাসপাতাল। হুবেই রেডিও ও টিভি স্টেশনে প্রচারিত খবরে বলা হয়, সুস্থতা লাভের পর বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ওই রোগীদের ছাড়পত্র দেয়া হয়।
লং শ্যাং ঝিং অনুষ্ঠানে প্রচারিত ভিডিওতে মাস্ক-পরিহিত ওই নারী-পুরুষ রোগীদের উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিতে হাসপাতাল ভবন ছাড়তে দেখা যায়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এবারই প্রথম একদিনে এতো বিপুলসংখ্যক রোগী করোনাভাইরাসকে হারিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরলেন।
এর আগে গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) করোনাভাইরাস-জয়ী হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন ২৩ বছর বয়সী এক রোগী। শানঝি প্রদেশের হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে হুবেই প্রদেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি। সেখানে ২৪৯ জন মারা গেছেন এ রোগে।
এদিকে প্রাণঘাতি এই করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, হংকং, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তাইওয়ান ও ইসরায়েলে ছড়িয়ে পড়েছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং নিহতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের উহান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।
একইসঙ্গে চীন সফর করেছে- এমন বিদেশি নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। বাতিল করা হচ্ছে চীনের সঙ্গে সরাসরি সকল ফ্লাইট। এছাড়া চীনের সঙ্গে থাকা সীমান্তগুলোও বন্ধ করে দেশ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। নিজ নিজ দেশের নাগরিক ছাড়া অন্য কোনো দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে বাধা দেয়া হচ্ছে।