আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা একটি প্রমোদতরীর অন্তত ১০ জন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিএনএনের তথ্যানুযায়ী, ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামের ওই প্রমোদতরীতে ৩৭০০ আরোহী ছিল। যার মধ্যে প্রায় ৩০০ যাত্রীকে পরীক্ষা করার পর ওই ১০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তারা এখন কানাগাওয়া এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত মাসে প্রমোদতরীতে থাকা হংকংয়ের ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হওয়ার পর সেটিকে বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এরপরেই আরোহীদের পরীক্ষা করা শুরু হয়। এছাড়া শারীরিক পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সব যাত্রীকে প্রমোদতরীর নিজ নিজ কক্ষে থাকতে বলা হয়েছে।
জাপানি গণমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, ভাইরাসটিতে যে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছে তাদের সবার বয়স পঞ্চাশোর্ধ। এদের কারো পরিস্থিতিই ‘গুরুতর’ নয় বলে জানিয়েছে তারা।
তবে হংকংয়ের যে ব্যক্তিকে ভাইরাসটির উৎস বলে মনে করা হচ্ছে ২০ জানুয়ারি প্রমোদতরীটিতে উঠেছিলেন এবং ২৫ জানুয়ারি জাহাজ থেকে নেমে যান। এর কয়েকদিন পরেই তার শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি ধরা পড়ে।
ওই যাত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে প্রমোদতরীটির কর্মকর্তারা সোমবার সন্ধ্যা থেকে যাত্রীদের পরীক্ষা শুরু করেন। মঙ্গলবার থেকে ইয়োকোহামা বন্দরে প্রমোদতরীটিকে পৃথক করে রাখা হয়।
এখন জাহাজটির যাত্রী ও ক্রুদের কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় ১৪ দিন রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাইরাসটি পোষক দেহে প্রায় দুই সপ্তাহ সুপ্ত অবস্থায় থাকার পর সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে মনে করা হয়।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মঙ্গলবার মারা গেছে আরও ৬৫ জন। ফলে বিশ্বজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯২ জন। চীনে নতুন করে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৩ হাজার ৮৮৭ জন। অর্থাৎ দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রতিষেধকবিহীন ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৪ হাজার ৩২৪ জন।