আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
চীনের উহান শহরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক মারা গেছেন। বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস এমন খবর জানিয়েছে।
চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর সেদেশে অবস্থানকারী কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম।
মার্কিন দূতাবাসে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং তাদের গোপনীয়তার স্বার্থে আমরা আর কোনো তথ্য প্রকাশ করতে চাইছি না।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত চীনে ১৯ জন বিদেশি নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং জানিয়েছেন, এদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং বাকি ১৭ জনকে কোয়ারেন্টাইন অবস্থায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা ৭২২ জন। দুই দশক আগে চীনের মূল ভূখণ্ড এবং হংকংয়ে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে করোনাভাইরাস।
আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, চীনের কেন্দ্রীয় হুবেই প্রদেশে নতুন করে আরও কমপক্ষে ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর হুবেই প্রদেশের উহান শহরেই প্রথম এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে।
এদিকে, চীনের হুবেই প্রদেশ এবং অন্যান্য স্থানে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৫৪৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অপরদিকে চীনের বাইরে আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন হংকংয়ের এবং অন্যজন ফিলিপাইনের।
চীনসহ বিশ্বের ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এসব দেশ ও অঞ্চলে ৩১০ জনের বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যেই চীনে তাদের ফ্লাইট বাতিল করছে। সেন্ট্রাল ফর ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এক মাসের বেশি সময় ধরে বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে চীনে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে আসছে।
ওই দলটিকে চীনে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে সহায়তা করতে পারবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চীনের তরফ থেকে কোনো ধরনের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কী কারণে চীন এমন করছে সে বিষয়টিও তারা ব্যাখ্যা করেনি। দু'সপ্তাহ আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে। এ ব্যাপারেও কোনো সাড়া মেলেনি।
এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায়, বেলজিয়াম, কম্বোডিয়া, কানাডা, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইতালি, জাপান, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, নেপাল, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভিয়েতনামে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।