আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৪ অক্টোবর, ২০১৫
ভারতের বিহারের নির্বাচনী উত্তাপকে পেছনে ফেলে এই মুহূর্তে সরগরম হয়ে উঠেছে গরু নিয়ে রাজনীতি। এই বিতর্কের মাঝে বিশিষ্ট লেখিকা শোভা দে ট্যুইট করেন, ‘এখনই গরুর মাংস খেলাম। আসুন আমাকে খুন করুন।’ শোভা মুম্বাইয়ে থাকেন। শোভা'র এ মন্তব্যে গণমাধ্যমসহ সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে অলোচনা -সমালোচনার ঝড়। বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় এসে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করেছে।
'গো-মাংস' ইস্যুতে ইতিমধ্যেই দিল্লি সংলগ্ন উত্তর প্রদেশের নয়ডায় বিসাদা গ্রামে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে ভিআইপি আনাগোনা। গো-হত্যার অভিযোগে হামলায় নিহত ইকলাখের বাড়িতে গতকাল শনিবার যান কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এলাকাটি এখনো উত্তপ্ত। বিরক্ত গ্রামবাসীর একাংশ এদিন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের গাড়ি ভাঙচুর করে। এরই মধ্যে পুলিশ দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব বলেছেন, অপরাধীদের কঠোর সাজা হবে।
এর আগে নিছকই এক গুজবকে কেন্দ্র করে গত সোমবার রাতে বিসাদা গ্রামে শতাধিক লোকের আক্রমণে ইকলাখ নিহত হন।
এ ঘটনায় গতকাল যে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়, তারা স্থানীয় এক মন্দিরের পুরোহিতকে বাধ্য করেছিল প্রতিশোধের ডাক দিতে। এর পরেই ইকলাখের বাড়ি আক্রমণ ও তাঁকে পিটিয়ে খুন করে উত্তেজিত জনতা।
গতকাল পাটনায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ বলেছেন, বিজেপি গরুর রাজনীতি হাতিয়ার করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের খেলায় নেমেছে। এটা ঠিক নয়। বহু হিন্দু আছে যারা গরু খায়। গরু খাওয়ার অপরাধে কাউকে পিটিয়ে মারা অন্যায়। পাটনাতেই লালুর কথার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, গরু নিয়ে কথা না বলে তিনি বরং বলুন, পনেরো বছরের শাসনে বিহারকে কেন জঙ্গলের রাজত্বে পরিণত করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি। এ নিয়ে প্রশ্ন করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও রাহুল গান্ধী। দুজনেই বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সমালোচনা করেন।
এরই মধ্যে বিজেপি-বিরোধী দলগুলো প্রচার শুরু করে দিয়েছে, গরুর রাজনীতির মধ্য দিয়ে তারা দেশে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা করছে, যাতে ভোটে জেতা সহজতর হয়।
ভারতের ১৮ কোটি মুসলমান ছাড়াও বহু অমুসলিম গরুর মাংস খায়। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাংস রপ্তানিকারক দেশ। তবে প্রধানত মহিষের মাংসই রপ্তানি হয় ।