সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ এপ্রিল, ২০২০
ম্যানহ্যাটনের নিউইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান অ্যালেন হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিতেন ডা. লরনা ব্রিম। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে একেবারে ফ্রন্টলাইনে থেকে কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি।
গত রোববার হাসপাতাল থেকে শারলটসভিলে নিজের বাড়ি ফেরার পর নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করে আত্মহত্যা করেন ৪৯ বছর বয়সী এই চিকিৎসক।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানা যায়। কিন্তু কেন আত্মহত্যা করলেন তিনি?
শারলটসভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে জানায়, 'রোববার জরুরি মেডিকেল সহযোগিতা চেয়ে একটি ফোন এলে আমরা ডা লরনার বাড়ি যাই। পরে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা লরনা ব্রিমের বাবা ডা ফিলিপ ব্রিম বলেন, 'ও নিজের কাজ করছিল আর সেই কাজই আজ ওর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।'
বিজ্ঞাপন
গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬ হাজার মানুষ করোনা ভাইরাসে মারা গেছে। শুধু নিউইয়র্কেই মারা গেছেন ১৭ হাজার ৫০০ জন।
লরনার বাবা বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে করতে ও নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তারপর এক সপ্তাহ বাড়িতে থাকার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার দৌড়ে গেছে কাজে।'
ফিলিপ ব্রিম বলেন, 'ওর সঙ্গে শেষবার যখন আমার কথা হয়, ওকে খুব অন্যমনস্ক মনে হচ্ছিল। হতাশ গলায় ও আমাকে বলছিল- অনেক রোগী অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর আগেই মারা যায়। ম্যানহ্যাটনের ২০০ বেডের এই হাসপাতালে কয়েক ডজন করোনা আক্রান্তকে মরতে দেখেছে ও।'
'হাসপাতাল থেকে ফিরে রোগীদের মৃত্যুযন্ত্রণা আর চারপাশের বীভৎস পরিস্থিতির বর্ণনা দিত ও।'
ফিলিপ বলেন, 'করোনা যুদ্ধের একেবারে ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা ছিল ও। ওকে একজন 'হিরো'র মর্যাদাই যেন দেওয়া হয়।'
নিউইয়র্ক প্রেসবাইটেরিয়ান অ্যালেন হাসপাতালের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডা লরনা ব্রিম করোনা পরিস্থিতিতে একেবারে সামনের সারিতে যুদ্ধ করে যাওয়া একজন 'হিরো'। এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সর্বোচ্চ মানের সেবা দিয়ে গেছেন তিনি। মহামারির এই দুর্দিনে এমন এক দুঃসংবাদ সহ্য করছেন তার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীরা। তাদের পাশে আছি আমরা।'