Sylhet Today 24 PRINT

বিচারের আগে আরও এক রাজাকারের মৃত্যু

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

একাত্তরের মানবতাবিরোধী বিচার সমাপ্তির আগে আরও এক রাজাকারের মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত এ রাজাকারের নাম আহম্মদ আলী, বাড়ি নেত্রকোনা। এ রাজাকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা চলমান ছিল।

বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনিসহ কয়েকজন আসামি আহম্মদ আলীকে অসুস্থ অবস্থায় ঢামেকের নতুন ভবনের ৭০১ ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি দীর্ঘদিন অ্যাজমা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন।

এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর আহম্মদ আলীকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে আবার কারা হেফাজতে নেয়া হয়।

আহম্মদ আলী নেত্রকোণা জেলার চড়াই চানগাঁ, পূর্ব ধলা গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর পুত্র। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নেত্রকোনায় বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৭ আসামির বিরুদ্ধে আগামী ১৫ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ রাজাকার আহমদ আলী সহ সাত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিইয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। নির্ধা্রিত তারিখ ছিল ১৫ নভেম্বর।

এ মামলার ওই সাত আসামির মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন আব্দুর রহমান ও আহমদ আলী (বর্তমানে মৃত)। পলাতক পাঁচ আসামি হলেন- শেখ মো. আব্দুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা, মো. আব্দুল খালেক তালুকদার, কবির খান, মো. নুরুদ্দিন ওরফে রুদ্দিন এবং ছালাম বেগ।

এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত ১২ আগস্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ঘাগড়া ইউনিয়নের সুনাইকান্দা গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আহাম্মদ আলীকে (৭৮) যার যার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। ১৩ আগস্ট তাদেরকে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল।

আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট দুপুর একটায় রাজাকার বাহিনী নিয়ে বাড়হা গ্রামের আব্দুল খালেককে গুলি করে হত্যার পর কংস নদীর পানিতে মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। শহীদ আব্দুল খালেকের ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা আঃ কাদির বাদী হয়ে ২০১৩ সালে চার রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও পরে তদন্তে আরও তিনজনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে মোট আসামি হন সাতজন।

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত করছেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির।

বাদী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির মামলায় অভিযোগ করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কর্মরত তার বড় ভাই আব্দুল হেকিম ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছিলেন। রাজাকাররা এ খবর জানতে পেরে তাদের বাড়িতে গিয়ে তার বড় ভাই আব্দুল খালেককে পিঠমোড়া করে বেঁধে মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের খোঁজ খবর জানতে চান।

ভাইদের কোনো খোঁজ না দেওয়ায় তখন রাজাকার বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ঘরে লুটপাট করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ভাই খালেককে ধরে নিয়ে গিয়ে জারিয়া রাজাকার ক্যাম্পে দুই দিন আটক রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরদিন ২১ আগস্ট তাকে জারিয়া কংশ নদীর পাড়ে গুলি করে হত্যা করে নদীর পানিতে মরদেহ ভাসিয়ে দেন রাজাকাররা।

উল্লেখ্য, আইন অনুযায়ি মৃত্যুজনিত কারণে রাজাকার আহমদ আলীকে বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.