সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
সময়–সুযোগ মিললে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা আজকালকার বেশির ভাগ দম্পতির। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, সার্বিক পরিস্থিতি —সবকিছু মিলিয়ে অনেক সময় মাতৃত্ব পিছিয়ে যায়। কিন্তু যখন সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত বা সময় নেওয়া হয়, তখন উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেটি হলো ডিম্বাণু রিজার্ভ কেমন।
নারীর ডিম্বাশয়ে বিদ্যমান ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মানকে ডিম্বাণু রিজার্ভ বোঝায়। একজন নারী জন্মের সময়ই নির্দিষ্টসংখ্যক ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। বয়ঃসন্ধিকালে সে সংখ্যা কমে আসে এবং প্রতি মাসে ডিম্বস্ফোটনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। বয়স বাড়ার সাথে শুধু ডিম্বাণুর সংখ্যা নয়, ডিম্বাণুর ৎ মানও গুণগতভাবে কমে । যার প্রভাব পড়ে নারীর প্রজনন সক্ষমতার ওপর।
নারীর প্রজনন সক্ষমতা সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকে ২০-৩০ বছর বয়স পর্যন্ত । ৩৫ এর পর থেকে ডিম্বাণু রিজার্ভ দ্রুত কমতে শুরু করে। এক বছর নিয়মিত সহবাসের পরও গর্ভধারণ না হলে তাকে ইনফার্টিলিটি বলা হয়। ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ছয় মাস ধরা হয়। ডিম্বাণু রিজার্ভ কমে যাওয়া ইনফার্টিলিটির একটি বড় কারণ। রিজার্ভ কম থাকলে নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত হতে পারে। গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায় এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে। তবে মনে রাখতে হবে, ডিম্বাণু রিজার্ভ কম মানেই গর্ভধারণ অসম্ভব, এমন নয়।
ডিম্বাণু রিজার্ভ কমে কেন?
বয়স ছাড়াও ডিম্বাণু রিজার্ভ কমে যাওয়ার পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে। পরিবারের কারও হলে, ডিম্বাশয়ে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন, এন্ডোমেট্রিওসিস, দীর্ঘদিন ধূমপান, অটোইমিউন রোগ, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন প্রভৃতি। অনেক ক্ষেত্রেই কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অল্প বয়সে ডিম্বাণু রিজার্ভ কমে যেতে পারে, যাকে বলা হয় প্রিম্যাচিউর ওভারিয়ান ইনসাফিসিয়েন্সি।
ডিম্বাণু রিজার্ভ কম হলে করণীয় কি?
ডিম্বাণু রিজার্ভ কম পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেরি না করে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকলে অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না। জীবনযাপনে পরিবর্তন, যেমন ধূমপান ত্যাগ, পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রয়োজনে ওভুলেশন ইনডাকশন বা আইইউআইয়ের সহযোগিতা নেওয়া।
বর্তমানে ডিম্বাণু সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে যাঁরা দেরিতে মাতৃত্বের পরিকল্পনা করছেন। ডিম্বাণু রিজার্ভ ও ইনফার্টিলিটি আধুনিক নারীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব বিষয়। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা আজ অনেক দূর এগিয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব।