Sylhet Today 24 PRINT

অভিভাবকত্বের সীমানা জানেন তো? মিলিয়ে নিন

সিলেটুডে ডেস্ক |  ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

কে হতে চায় না ভালো মা–বাবা বা অভিভাবক ! নিজের সন্তানকে নিরাপদ, সফল ও সুখী দেখতে আমরা অনেক সময় সবকিছু নিজের হাতে তুলে নিতে চাই। এসব অতিরিক্ত যত্ন, শাসন আর নিয়ন্ত্রণ সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে—নিজে শেখা, ভুল করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কেড়ে নেয়। আর তখনই তা হয়ে ওঠে বাড়তি অভিভাবকত্ব বা ওভারপ্যারেন্টিং। এতে সন্তানের স্বাধীন চিন্তার প্রবনতা ব্যাহত হয় ।

১. সন্তানের হয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া ও স্বাধীনতা দিতে ভয় পাওয়া

সন্তান কার সঙ্গে মিশবে, কী পড়বে, কী খেলবে,—সব আপনি ঠিক করে দিলে নিজের পছন্দ-অপছন্দ বোঝার সুযোগ সে পাবে না। বড় হয়েও সিদ্ধান্তহীনতা আর আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগবে। এতে ভালো-মন্দ নানা দিক বিশ্লেষণের ক্ষমতা কমে যাবে। স্বাধীনতা মানেই দূরে সরে যাওয়া নয়, বরং আস্থা আর বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করা। সন্তানকে একটু একটু করে নিজের ওপর ভর করতে, আত্মনির্ভরশীল হতে শেখানোই স্বাধীনতা।

২. ছোট ছোট ভুলও হতে না দেওয়া

ভুলের মাধ্যমেই শিশু শেখে। প্রতিবার ভুল করা থেকে বাঁচিয়ে দিলে শেখার সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

৩. সারাক্ষণ নজরদারি করা

সব সময় খোঁজ নেওয়া, ফোন করা, বা পর্যবেক্ষণ করা সন্তানের মধ্যে নজরদারি থেকে পালানোর ঝোঁক তৈরি করতে পারে। তাতে আপনার আর সন্তানের ভেতর মানসিক দূরত্ব তৈরি করে। আর তখন সে যখন চোখের আড়াল হবে বা সুযোগ পাবে, এমন কিছু করার চেষ্টা করবে, যা মোটেও আপনি পছন্দ করেন না বা যা আপনার থেকে লুকানো আবশ্যক ছিলো।

৪. সব সমস্যায় হস্তক্ষেপ করা বা সব ঝুঁকি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা

সামান্য সমস্যাতেই আপনি এগিয়ে গেলে সন্তান নিজে মোকাবিলা করতে শেখে না। বন্ধু, শিক্ষক, খেলাধুলার সময় সামান্য সমস্যার পরিস্থিতি তাকে মোকাবিলা করতে না দিলে তার পরবর্তী জীবনে সমস্যা সমাধানের অক্ষমতা ডেকে আনে।মনে রাখতে হতে কোন জীবনই ঝুঁকিমুক্ত নয়। নিরাপদ ঝুঁকি নিতে না শেখালে সন্তান ভবিষ্যতে ভয় পেতে শেখে। সব ঝুঁকি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা সন্তানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

৫. অন্যের সাথে তুলনা

অন্যের সাথে তুলনা সন্তানের মনোবল ভেঙে দেয়। এতে তার ভেতর হীনম্মন্যতা তৈরি করে।

৬. বাড়তি দায়িত্ব

বয়স অনুযায়ী দায়িত্ব বাড়তি পেলে আত্মনির্ভরতা গড়ে উঠতে পারে না অনেক ক্ষেত্রে।

৭. নিজের ভয় সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া

আপনার ব্যক্তিগত ভয় বা বিশ্বাস যেন সন্তানের সিদ্ধান্ত ও স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ না করে।

৮. ‘আমিই সব ভালো বুঝি’ মনোভাব

আপনি সব পারেন, সব উত্তর আপনার কাছেই আছে, আপনিই ভালো বোঝেন—এই ধারণায় সন্তানের কণ্ঠস্বর, আত্মবিশ্বাস চাপা পড়ে যায়।

 

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.