সিলেটুডে ডেস্ক | ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আপনি হয়তো ৪৫ বা ৫০ পেরোনো একজন পেশাজীবী। এবং পত্রিকা বা লিংকডইন খুলে আজও হয়তো আবার চাকরির বিজ্ঞাপন দেখেন। ১০ বার স্ক্রল করেও চোখে পড়ল একই কথা, ‘এন্ট্রি লেভেল’, ‘ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট’, ‘০–৩ বছরের অভিজ্ঞতা’। অথচ, আপানার কাজের অভিজ্ঞতা ২০–২৫ বছরের। চাকরি ছাড়ার বয়স হয়নি, এদিকে নতুন চাকরির দরজাগুলোও ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একেই বলে ‘স্যান্ডউইচ জেনারেশন’-এর ক্যারিয়ার ফাঁদ।
বাস্তবতার জায়গা
কর্মক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বৈষম্য খুব চুপি চুপি কাজ করে। ছাঁটাইয়ের সময় প্রথমে বাদ পড়েন তাঁরা, যাঁদের বেতন বেশি। অর্থাৎ যাঁদের বলা হয় ‘সিনিয়র’, কিন্তু বাস্তবে বয়স ৪০ পেরোলেই এই তালিকায় ঢুকে পড়তে হয়। এই বাস্তবতা যতই কঠিন হোক, একেবারেই যে বেরোনোর পথ নেই, তা নয়। আপনাকে নতুন করে ভাবতে হবে।
আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলোর চিত্রে এ বিষয়টা আরোও পরিষ্কার করে। ২০২৫ সালে ‘ফোর্বস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী কর্মীদের অর্ধেকের বেশি অবসরের আগেই চাকরি হারান বা তাঁদের ছাঁটাই করা হয়। আর তাঁদের বেশির ভাগই পরে আর আগের মতো অবস্থান ফিরে পান না। কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, এই দৃশ্য এখন দুনিয়ার নানা দেশে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে দ্রুত পরিবর্তন এ সমস্যা বাড়াচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অনেক জুনিয়রের কাজ সহজ করে দিচ্ছে, কিন্তু মাঝামাঝি পর্যায়ের পেশাজীবীদের জন্য স্থিতিশীলতা দিন দিন কমছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক ছাঁটাইগুলোয় ৪০–৫০ বছরের কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে হতাশ হলে তো জীবন চলবে না, খুঁজে দেখুন কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায়!
ডিজিটাল স্কিলিং
অনলাইন কোর্স, সার্টিফিকেট—এসব এখন বয়স নয়, দক্ষতাই প্রমাণ করে। নতুন টুলস শেখা মানে ‘আউটডেটেড’ তকমাটা ঝেড়ে ফেলা।
ফ্রিল্যান্সিং ও সাইড গিগ
পুরো চাকরি বদলানো সম্ভব না হলেও, নিজের দক্ষতা দিয়ে ছোট কাজ, পরামর্শ বা প্রজেক্ট নেওয়া যেতে পারে। এখানে বয়স নয়, কাজটাই মুখ্য।
নেটওয়ার্কিংটা নতুন করে ভাবুন
পুরোনো সহকর্মী, অ্যালামনাই গ্রুপ, ৪০+ পেশাজীবীদের লিংকডইন কমিউনিটি—এসব এখন আগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
নিজেকে পরামর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠা
আপনার অভিজ্ঞতাই আপনার মূল শক্তি। সেটাকে কনসালটিং বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আয় হিসেবে রূপ দিতে পারেন।
অর্থনৈতিক প্রস্তুতি
বড় বিনিয়োগ নয়, বরং দৈনন্দিন খরচ ও জরুরি স্বাস্থ্যব্যয়ের জন্য সঞ্চয়—এই সময়ে সেটাই বেশি জরুরি।
এই ‘স্যান্ডউইচ জেনারেশন’-এর ক্যারিয়ার সংকট কি বাংলাদেশেও ক্রমে বাড়ছে। প্রযুক্তির উৎর্কষতায় এ সমস্যা আরো তীব্রতর হওয়ার আশংকা বাড়ছে । তাই এখনি সময় নিজেকে আরো এ ধাপ উন্নয়নের ।