সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৪ জুন, ২০২৬
ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস আর শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে আজকাল যে স্বাস্থ্য সমস্যাটি ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে, তা হলো ফ্যাটি লিভার। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন, অলস জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই নীরব ঘাতকের মতো লিভারে চর্বি জমতে শুরু করে। অনেকেই রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে আচমকা এই সমস্যার কথা জানতে পারেন।
আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ওষুধের খোঁজ করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ওষুধ ছাড়াই কেবল জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে ক্ষেমবন ন্যাচারোপ্যাথি অ্যান্ড ইয়োগা সেন্টারের চিফ ওয়েলনেস অফিসার ডা. নরেন্দ্র কে শেঠি জানিয়েছেন, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে ‘সঠিক জীবনযাত্রাই হলো আসল ওষুধ’।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ওষুধ ছাড়া ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমানোর কার্যকর উপায়গুলো:
১. চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার
ফ্যাটি লিভারের অন্যতম প্রধান লুকানো কারণ হলো অতিরিক্ত চিনি খাওয়া। কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস, বিস্কুট এবং প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি খাবারে থাকা অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা পরে চর্বি হিসেবে জমা হয়। ডা. শেঠি জানান, খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিলে খুব দ্রুত লিভার এনজাইমের উন্নতি ঘটে।
২. নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও হাঁটাচলা
লিভারের চর্বি গলাতে অলসতা দূর করার কোনো বিকল্প নেই। ডা. শেঠির মতে, সপ্তাহে অন্তত ছয় দিন মাত্র ৩০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটা (ব্রিস্ক ওয়াকিং) লিভার ভালো রাখতে দারুণ কার্যকর। এছাড়া নিয়মিত যোগব্যায়াম, স্কোয়াট এবং পুশ-আপের মতো ব্যায়াম শরীরকে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং লিভারের ওপর থেকে চর্বির চাপ কমায়।
৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরের কর্টিসল ও ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে পরোক্ষভাবে লিভারে চর্বি জমা ও প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ে। লিভার সুস্থ রাখতে দৈনিক অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম অপরিহার্য। বিশেষ করে গভীর রাতে মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও অ্যালকোহল বর্জন
শরীরের অতিরিক্ত ওজন ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের সামগ্রিক ওজনের মাত্র ৭ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারের প্রদাহ ও চর্বি জমার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এছাড়া লিভারের সুরক্ষায় অ্যালকোহল বা মদপানের অভ্যাস পুরোপুরি বর্জন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন ও ঘরোয়া ডায়েট
ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে তেলে ভাজা, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত ফাস্টফুড পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে। এর বদলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, তাজা ফলমূল, ডিম, মাছ এবং গোটা শস্যদানা বা লাল চাল-আটার মতো সাধারণ ঘরোয়া খাবার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার কোনো জটিল রোগ নয়। জীবনযাত্রার ধারাবাহিক ও ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমেই প্রাকৃতিকভাবে লিভারকে আবার সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।