Sylhet Today 24 PRINT

তাভেলা হত্যা: যে কারণে সে রাতে বন্ধ ছিল সড়কবাতি

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৩ অক্টোবর, ২০১৫

ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ডের পর একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ঘটনার সময় গুলশানের ৯০ নম্বর রোডের সড়কবাতি বন্ধ ছিল। তাভেলাকে খুনের কয়েক মিনিট পর বাতি জ্বলে ওঠে। অনেকে ধারণা করছিলেন, তাহলে কি অন্ধকারে হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করতে সড়কবাতি বন্ধ রাখা হয়েছিল?

তাভেলা হত্যা-রহস্য উদ্ঘাটনে গোয়েন্দারা এখন পর্যন্ত যেসব বিষয় মাথায় রেখে নিবিড় অনুসন্ধান করছেন, তার মধ্যে ছিল সড়কবাতির ব্যাপারটি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাতে আপাতত বেরিয়ে এসেছে তাভেলা হত্যাকাণ্ডের সময় সড়কবাতি বন্ধ থাকার বিষয়টি পূর্বপরিকল্পনার অংশ নয়। তাহলে কী ঘটেছিল সেই দিন! এ প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের লাইনম্যান নাসিরুল কবির।

গুলশান ও নর্দা এলাকায় তিনি সড়কবাতি সুইচবোর্ড অন-অফ করার দায়িত্বে নিয়োজিত। তার আওতায় ৩৫টি সুইচবোর্ড রয়েছে। একেকটি বোর্ডের আওতাধীন অন্তত ৩৫টি সড়কবাতি। সব মিলিয়ে দিনে সহস্রাধিক সড়কবাতি সুইচবোর্ড অন-অফের দায়িত্ব তার ওপর। প্রায় প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে তিনি গুলশানে সড়কবাতির সুইচবোর্ড চালু শুরু করেন। সাইকেল চালিয়ে এ কাজ করতে তার সময় লাগে অন্তত এক ঘণ্টা। ২৮ সেপ্টেম্বর কালাচাঁদপুর এলাকার সড়কবাতির সুইচবোর্ড চালু করেন। এরপর একে একে যান ৭২, ৭৩, ৬৯, ৬৮, ৫৮, ৫৬, ৫০, ৫১ নম্বর সড়ক, বনানীর মূল সড়ক, গুলশান ২ নম্বর, ৮৪ ও ৮৬ নম্বর সড়কে। ৯০ নম্বর সড়কের মাথায় যে স্পটে তাভেলাকে হত্যা করা হয়েছে তার ২৫ মিটারের মধ্যে পাঁচটি সড়কবাতি। ওই রাস্তার পূর্ব অংশের সড়কবাতি নিয়ন্ত্রিত হয় ৮৬ নম্বর সড়কে স্থাপিত সুইচবোর্ডের মাধ্যমে। ৮৪ নম্বর সড়কের সুইচবোর্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় ৯০ নম্বর সড়কের পশ্চিম অংশের বাতি। কালাচাঁদপুর থেকে সুইচবোর্ড চালু শুরু করে ৮৪ নম্বর সড়কে পৌঁছতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ লেগে যায় নাসিরুলের।

ওই এলাকার সড়কবাতি চালু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তাই হত্যাকাণ্ডের সময় ওই এলাকা অন্ধকারে ছিল।

সিটি করপোরেশনের কর্মী নাসিরুল বলেন, নব্বইয়ের দশকে তিনি বিএনপির সমর্থক ছিলেন। তবে তার কোনো পদ-পদবি ছিল না। এখন তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জাতীয় শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে সড়কবাতির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়েছে। ফিউজ নষ্ট না হলে একই এলাকায় কোথাও বাতি জ্বলবে আবার কোথায় নিভবে- এটি সম্ভব নয়। কারণ এটা পুরোপুরি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পদ্ধতিতে করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল হালিম বলেন, ৩৩ বছর ধরে নাসিরুল গুলশান এলাকায় একই কাজে নিয়োজিত। তিনি মাস্টাররোলের কর্মচারী। তার আওতায় ৩৫টি সুইচবোর্ড রয়েছে। প্রায় একই নিয়মে তিনি প্রতিদিন সুইচবোর্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনার দিনও এর কোনো ব্যত্যয় হয়নি। গুলশানে সড়কবাতির রহস্য উদ্ঘাটনে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত তদন্তও করেছেন গোয়েন্দারা। নাসিরুলের দেওয়ার তথ্যের সঙ্গে প্রযুক্তিগত তদন্তে এখনও কোনো গরমিল পাওয়া যায়নি।

সূত্র : সমকাল

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.