সিলেটটুডে ডেস্ক | ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
জুলাই মাসের চেয়ে আগস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কমেছে। জুলাইয়ে ছিল ৪৫ জন এবং আগস্টে হয়েছেন ১ জন। মঙ্গলবার মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। তারা বলছে, আগস্টে নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়েছে।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন বলেছে, আগস্ট মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১ জন। জুলাই মাসে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ জন। জুলাই মাসের তুলনায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কমলেও এ মাসে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো ও চাঁদাবাজিসংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া আগস্ট মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুজনের মৃত্যু, একজনকে নির্যাতন ও সাতজনকে হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই মাসে থানাহাজতে একজনের মৃত্যুসহ আটটি ঘটনা ঘটেছিল।
বিজ্ঞাপন
আগস্ট মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ, হত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে সংগঠনটি জানায়, এ সময়ে ২১১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৮৬টি। যদিও জুলাই মাসে ১৭২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া আগস্ট মাসে ৬৩ জন নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ছয়জন শিশু ও ৫৭ জন নারী। তবে জুলাই মাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার নারী ও শিশুর সংখ্যা ছিল ৩৩ জন। এ সময়ে ১৯ জন নারী ও কিশোরী আত্মহত্যা করেছে।
সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের চিত্র আগস্ট মাসে উদ্বেগজনক থাকার কথা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৫ জন সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই মাসে ১২ সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত বলে উল্লেখ করেছে তারা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আগস্ট মাসে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুলাই এ সংখ্যা ছিল পাঁচজন। এ ছাড়া অপহরণ ও গুমের ঘটনার কথাও জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন।
আগস্ট মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিকের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। যদিও জুলাই মাসে এ সংখ্যা ছিল সাতজন।
বিজ্ঞাপন
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বলছে, এই করোনা মহামারির সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে জবাবদিহি অত্যাবশ্যক। এ ছাড়া জনগণের স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষা ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এ সংগঠন।