সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
নারায়ণগঞ্জ শহরে মসজিদে বিস্ফোরণ থেকে আগুনে দগ্ধ হয়ে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তির অধিকাংশকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর শনিবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ১১ জন মারা গেছেন। তারা হলেন- রিফাত, যুবায়ের, হুমায়ুন কবির, মোস্তফা কামাল, ইব্রাহীম, জুয়েল, সাব্বির, দেলোয়ার হোসেন, জামাল, জুনায়েদ ও কুদ্দুস ব্যাপারী। সকাল ১১টার দিকে মারা যান রাসেল নামে একজন।
মৃতদের মধ্যে জুয়েল নামে শিশুটির দেহের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায় বলে জানান বার্ন ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক ডা. হুসেইন ইমাম।
বিজ্ঞাপন
ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, দুপুরে আরও দুজন মারা যায়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৪ জন হল। অগ্নিদগ্ধ আরও ২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে সামন্ত লাল জানান।
তিনি বলেন, যারা ভর্তি আছেন, তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। তাদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলা যায়।
সকালে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিস্ফোরণে মসজিদের ৬টি এসি পুড়ে গেছে এবং জানালার কাচও উড়ে গেছে। গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে গ্যাস জমে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। এই ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফায়ার ব্রিগেডের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, এসিতে ব্যবহৃত ফ্রেয়ন গ্যাসের অস্থিত্ব আমরা মসজিদের ভেতরে বাতাসে পেয়েছি। এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।