সৃজিতা মিতু, চট্টগ্রাম | ২১ অক্টোবর, ২০১৫
বগুড়ায় প্রতিমা ভাংচুর, বাগেরহাটে মন্দিরে আগুন, 'মাটির সন্তান' তছনছ, পালপাড়ায় আতঙ্ক, সাতক্ষীরায় চিঠি দিয়ে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হুমকি, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রতিমা ভাংচুর।
এসব ঘটনায় একত্র হয়ে কেউ ছিন্ন বস্ত্রে, কেউ বিপন্ন-অসহায় হয়ে ধ্যানমগ্ন ‘মা’ দুর্গার সামনে বসে প্রার্থনার ভঙ্গিতে অন্যায়ের প্রতিকার চাইছেন, নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের নিশ্চয়তা চাইছেন।বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এসব প্রতিভাত হচ্ছিল চট্টগ্রামের পাথরঘাটা পাঁচবাড়ি পূজামণ্ডপ কমিটির বানানো প্রতিবাদী পূজামণ্ডপে। মা 'দুর্গা' সাড়া দিলেন কিনা ভিন্ন প্রশ্ন তবে চট্টগ্রামের ব্যতিক্রমী এই পূজামণ্ডপ ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুসারে দেবী দুর্গা ‘দুর্গতিনাশিনী’ বা সকল দুঃখ দুর্দশার বিনাশকারিনী। কিন্তু বাস্তবে প্রতিমারূপী দুর্গা নিজেই এখন হামলার শিকার। আর এই বিপন্ন অবস্থাকে নির্বিকারভাবে মেনে নেয়ার একটা আবহাওয়া যখন দেশে তৈরি হচ্ছে তখন চট্টগ্রামের পাথরঘাটা পাঁচবাড়ি পূজা কমিটি ঠিক করলেন ভিন্ন কিছু করবেন। যদি কোনভাবে নাড়া দেয়া যায় সমাজকে।
বুধবার বিকেলে পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা গেল ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভীড়। পূজা আয়োজক কমিটির সদস্য সৌরভ চৌধুরীকে এই প্রতিমার থিম বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন - "অনেকে অনেকভাবে করছে কিন্তু আমাদের টার্গেট ছিল কিভাবে অল্প খরচে মানুষের কাছে একটি মেসেজ দেয়া যায়"।
তিনি বলেন, " আসলে এই পূজাটা সকল সম্প্রদায়ের মানুষজন দেখতে আসে আর দেখতে আসলে যেন তাদের কাছে একটি মেসেজ যায় সেটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য, আমরা চেষ্টা করেছি দেশব্যাপী যে অন্যায় হয়েছে তা তোলে ধরতে"
পাঁচবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ চৌধুরী শিবুর পরিকল্পনায় এই পূজামণ্ডপটিতে কেবল সংখ্যালঘু নয় নারী নির্যাতনের বিষয়টিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মণ্ডপে পূজা দেখতে আসা ভক্ত, দর্শনার্থীরাও এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান, সুস্মিতা ধর নামে এক দর্শনার্থী বলেন, "আসলে এটি খুব সময় উপযোগী কাজ, পূজা পালনের পাশাপাশি যে নিপীড়নের প্রতিবাদ করা যায় তা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি"।
এই মণ্ডপে প্রার্থনা করতে আসা উর্মি ঘোষ নামে এক ভক্ত বলেন, "অনেক তো মানববন্ধন হল, ওসব কেউ আমলেই নেয় না, এবার যদি ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদ কিছু মাত্র নাড় দেয় সেটাই অনেক"।
পূজা দেখতে এসেছিলেন হাবিবুর রহমান নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র। তিনি বলেন, "আমি মনে করি সকল ধর্মের মানুষের নিরাপদে যার যার ধর্ম পালনের অধিকার আছে, পূজা এলেই হিন্দুদের প্রতিমার উপর আঘাত আসলে খুবই দুঃখজনক, এসবের প্রতিকার সরকারকেই করতে হবে"