Sylhet Today 24 PRINT

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক রশীদ হায়দারের জীবনাবসান

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৩ অক্টোবর, ২০২০

একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও গবেষক রশীদ হায়দার আর নেই। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। এ কীর্তিমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার মেয়ে শাওন্তি হায়দার বলেন, বেশ কিছুদিন যাবৎ তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন।

১৯৪১ সালের ১৫ জুলাই পাবনার দোহারপাড়ায় জন্ম রশীদ হায়দারের। তার পুরো নাম শেখ ফয়সাল আবদুর রশীদ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন হায়দার, ডাকনাম দুলাল। তিনি ১৯৫৯ সালে গোপালগঞ্জ ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬১ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় রশীদ হায়দার জনপ্রিয় পত্রিকা চিত্রালীতে কাজ শুরু করেন। তার বড়ভাই জিয়া হায়দার ওই পত্রিকায় কাজ করতেন। জিয়া হায়দার নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজে চাকরি নিয়ে চলে যাওয়ার আগে তার অনুরোধে কর্তৃপক্ষ ছোট ভাইকে চাকরিতে নিয়োগ দেন।

১৯৬৪ সালে চিত্রালীর পাশাপাশি পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ডের মুখপত্র পরিক্রম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

১৯৭০ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ত্রৈমাসিক কৃষিঋণ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমিতে চাকরি পান। দীর্ঘদিন চাকরির পর ১৯৯৯ সালে বাংলা একাডেমির পরিচালকের পদ থেকে অবসর নেন। পরে নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।

বাংলা একাডেমিতে কর্মরত থাকাকালীন অবস্থায় তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি ছিল মুক্তিযুদ্ধে স্বজন হারানো মানুষের স্মৃতিচারণা ১৩ খণ্ডের ‘স্মৃতি : ১৯৭১’।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৭ সালে ১ জানুয়ারি প্রকাশ হয় রশীদ হায়দারের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নানকুর বোধি’।  ১৯৭২ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে লেখা শুরু করেন জীবনের প্রথম উপন্যাস ‘গন্তব্যে’। অর্ধেক মুদ্রিত হওয়ার পর কোনো এক অজানা কারণে লেখাটি তিনি আর লিখে শেষ করতে পারেননি। তবে বেশ পরে এটি অন্য নামে প্রকাশ হয়।

১৯৭৪ সালে দিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় তিন বছরের জন্য লেখাপড়ার সুযোগ পান। তিন মাস ক্লাস করার পর বাংলা একাডেমির চাকরি হারানোর ভয়ে তাকে ফিরে আসতে হয়।

১৯৬৪ সালে মুনীর চৌধুরীর পরিচালনায় তিনি অভিনয় করেন ‘ভ্রান্তিবিলাস’ নামে একটি নাটকে কিংকর চরিত্রে। ছাত্রজীবনের শেষেও প্রায় দশ-বারো বছর তিনি নাট্যজগতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জিয়া হায়দারের নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

রশীদ হায়দারের গল্প, উপন্যাস, নাটক, অনুবাদ, নিবন্ধ, স্মৃতিকথা ও সম্পাদনা মিলিয়ে ৭০-এর বেশি বই প্রকাশ করেন। কথাসাহিত্যে অবদান রাখার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৪), একুশে পদক (২০১৪), হ‌ুমায়ূন কাদির পুরস্কার, পাবনা জেলা সমিতি স্বর্ণপদক, রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.