Sylhet Today 24 PRINT

‘হায় হোসেন’, ‘হায় হোসেন’

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৪ অক্টোবর, ২০১৫

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে শনিবা সকালে রাজধানীর হোসেনি দালানের ইমামবাড়া থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ তাজিয়া মিছিল বের করে। খবর বাসস'র। 

শুক্রবার রাতে বোমা হামলায় হতাহতের পরও সকালে এ মিছিল বের করা হয় এবং তখনও সেখানে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ লক্ষ্য করা গেছে।

শুকিয়ে যাওয়া রক্তের ধারার চিহ্ন ও স্বজন হারানোর ক্ষতকে বুকে ধারণ করে শিয়া সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ত্যাগ ও শোকের এ মিছিলে শরিক হন।

এ সম্প্রদায়ের মানুষ সুদৃশ্য পোশাকে নিজেদের সাজিয়ে কালো, লাল ও সবুজ নিশান উড়িয়ে এবং নিজ নিজ বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনি তুলে তারা মিছিলটি বের করেন।

শুক্রবার রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে হোসেনি দালান চত্বর থেকে প্রথম তাজিয়া মিছিল বের করার মুহূর্তে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এক যুবক মারা যায়। আহত হয় শতাধিক। আহতদের ঢাকা মেডিকেল ও মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হোসেনি দালান কমিটির সভাপতি ফিরোজ হোসেন জানান, হোসেনি দালানের ৪০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম তাজিয়া মিছিলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটলো।

তিনি বলেন, তারপরও শোকের প্রতীক হিসেবে কালো পতাকা, লাল-সবুজের আলাম, ছোটো ছোটো পতাকা হাতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু এ শোক মিছিলে অংশ নিয়েছেন। তাদের মুখে ছিল ‘হায় হোসেন’, ‘হায় হোসেন’ বিলাপ। এবারও মিছিলের অগ্রভাগে ছিল দুলদুল ঘোড়া (ইমাম হোসেনকে বহনকারী ঘোড়ার প্রতীক), জিন (বসার আসন), মাথার খাপসহ বিভিন্ন উপকরণ।

সকালে মিছিল শুরুর আগে হোসেনি দালান প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

শোক মিছিলটি হোসেনি দালন ইমাম বাড়া থেকে শুরু হয়ে বকশীবাজার, উর্দ্দু রোড, লালবাগ চৌরাস্তা হয়ে শহীদের মাজার ও আজিমপুর দিয়ে ধানমন্ডি জিগাতলায় গিয়ে শেষ হয়।

বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর দ্বিতীয় তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের দেহ তল্লাশি করে হোসেনি দালান প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। পরে মিছিলের সামনে ও পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যর উপস্থিতিতে মিছিলটি বের করা হয়।

ঘটনাস্থলে র‌্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ছাড়াও রাস্তায় বিজিবির টহলও ছিল।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে কারবালার শোকাবহ ঘটনাকে স্মরণ করতে গিয়ে এবারই প্রথম রাজধানীর হোসেনি দালানে ঘটেছে বোমা হামলার মত হৃদয় বিদারক ঘটনা। এতে হোসেনি দালানের অন্যান্য কর্মসূচিসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বের হওয়া তাজিয়া মিছিলে গ্রহণ করা হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মুসলিম বিশ্বে আশুরা অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রেরণার উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।

এবার বাংলাদেশে বোমা হামলার ঘটনার পরও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আশুরার শোক ও স্মৃতিকে স্মরণ করেছে শিয়া সম্প্রদায়। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে তারা রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পবিত্র আশুরা পালন করে। তাদের কর্মসূচির মধ্যে ছিল তাজিয়া মিছিল, বিশেষ মোনাজাত, দোয়া মাহফিল ও কোরআন খানি। দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে মসজিদে মসজিদে ওয়াজ মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়।

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রাঃ) কারবালার ফোরাত নদীর তীরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শাহাদাত বরণ করেন।

কারবালার এ শোকাবহ ঘটনার স্মরণে আজ ছিল সরকারি ছুটি।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতার পবিত্র আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

হোসনি দালান থেকে বের হওয়া তাজিয়া মিছিল ছাড়াও রাজধানীর মোহাম্মপুর ও মগবাজার থেকে আশুরার মিছিল বের হয়। এসব মিছিলেও শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিজেদের বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ বলে মাতম করে। ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জে বিবিকা রওজা থেকে আজ বিকেলে আশুরার আরেকটি মিছিল বের হয়। এ মিছিলকে বলা হয় ‘বিবিকা ডোলা’। বাংলাবাজার, চকবাজার, আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডি লেকে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.